পুবের কলম ওয়েবডেস্ক,  শিক্ষক চাইলে শুধু পড়াতে পারেন, আবার চাইলে একটি গোটা স্কুলের ছবিও বদলে দিতে পারেন। কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার শিক্ষক ইয়াকুব এস. কোয়্যুর দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিয়েছেন। সীমিত পরিকাঠামোর সরকারি স্কুলে নিজের উদ্যোগে তৈরি করেছেন এমন একটি গণিতের জগৎ, যেখানে অঙ্ক আর ভয়ের বিষয় নয়। বরং তা হয়ে উঠেছে আনন্দের।

দক্ষিণ কন্নড়ের কোয়্যুর গ্রামে জন্ম ইয়াকুবের। বহু ভাই-বোনের মধ্যে হাইস্কুল পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পাওয়া একমাত্র তিনিই।

এসডিএম কলেজ থেকে বিএসসি করার পর প্রায় দু’বছর স্থানীয় সরকারি হাইস্কুলে পড়ান। তখনই শিক্ষকতাকেই জীবনের লক্ষ্য করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে মঙ্গলুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালে নাডা গ্রামের সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু।
প্রায় ২৫ বছরের শিক্ষকতায় তিনি পড়িয়েছেন চার হাজারের বেশি পড়ুয়াকে। দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের জন্য তৈরি করেছেন সহজ শেখার উপকরণ।
তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পদ্ধতিতে বোঝালে প্রত্যেক শিশুই শিখতে পারে।

২০১২ সালে এক রাতে স্বপ্নে স্কুলের একটি ঘরে ‘Maths Lab’ লেখা দেখতে পান ইয়াকুব। ঘুম ভাঙার পর ঠিক করেন, স্বপ্নটাই বাস্তব করবেন। কিন্তু সরকারি স্কুলে অর্থের অভাব ছিল। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রাক্তন পড়ুয়াদের কাছে সাহায্য চান। একদিনের মধ্যেই প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা উঠে আসে।

পরিবার ও প্রাক্তন ছাত্রদের সহায়তায় ফাঁকা ঘরটি হয়ে ওঠে ‘Maths World’।

স্মার্ট টিভি, স্মার্ট বোর্ড ও বিভিন্ন গাণিতিক মডেলে সাজানো এই ল্যাবে পড়ুয়ারা দেখে, ছুঁয়ে ও পরীক্ষা করে অঙ্ক শেখে। এমনকি খেলার সময়ও অনেকে ল্যাবে ছুটে যেত। ইয়াকুবের উদ্যোগের স্বীকৃতি মিলেছে একাধিকবার। ২০১৬ সালে সেরা জেলা শিক্ষক, ২০১৮ সালে সেরা রাজ্য শিক্ষক এবং ২০২০ সালে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পান তিনি।

এখন তাঁর লক্ষ্য আরও বড়- স্কুলে আধুনিক লাইব্রেরি, বিভিন্ন বিষয়ের ল্যাব, সবুজ চত্বর, হার্বাল গাছ ও সবজি চাষ। তাঁর উদ্যোগে এক সহকর্মীও তৈরি করেছেন স্মার্ট ক্লাস।