পুবের কলম, নয়াদিল্লি: জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের পেশ করা দেনা পরিশোধের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল। এই অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার মোট ঋণের বিপরীতে সুভাষ চন্দ্র পরিশোধ করবেন মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা—যা মোট পাওনার মাত্র ০.০৩ শতাংশ! ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে এবার ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালের দ্বারে যাওয়ার কথা জানাল দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক এইচডিএফসি।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার এইচডিএফসি ব্যাংক জানায়, গত ২৫ আগস্টের এই আদেশের ফলে ব্যাংকটি তাদের মোট দাবিকৃত পাওনার মাত্র ৩.২ শতাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
এইচডিএফসি লিমিটেড ও এইচডিএফসি ব্যাংকের একত্রিতকরণের পর এই ঋণের দায়ভার ব্যাংকের ওপর বর্তায়। এইচডিএফসি ব্যাংক এই ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবটির শুরু থেকেই তীব্র বিরোধিতা করেছিল এবং প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। তবে পাওনাদারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রস্তাবটি ট্রাইব্যুনালে পাস হয়ে যায়।আরও পড়ুন:
ট্রাইব্যুনালের আদেশের সঙ্গে সংযুক্ত ভোটিং রেকর্ড অনুযায়ী, দেশের একাধিক শীর্ষ ব্যাংক এই পরিকল্পনার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল।
এই তালিকায় রয়েছে, এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস, কানারা, আরবিএল ও ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। পরিকল্পনার বিরোধিতাকারী ব্যাংকগুলোর মারাত্মক অভিযোগ, যে সমস্ত সত্তা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তাদের বড় একটি অংশই সুভাষ চন্দ্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা সম্পর্কিত পক্ষ। ফলে তাদের ভোট হিসাবের মধ্যে আনাই উচিত হয়নি। ভোটিং নথিতে ভিনা ইনভেস্টমেন্টস, ডিরেক্ট মিডিয়া ডিস্ট্রিবিউশন ভেঞ্চারস, ওয়ার্ল্ড ক্রয়েস্ট অ্যাডভাইজারস, লেমেনেড ক্যাপিটাল এবং কর্পকল ক্যাপিটালের মতো একাধিক সংস্থার নাম উল্লেখ করে এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।আরও পড়ুন:
পাওনাদারদের পক্ষ থেকে সুভাষ চন্দ্রের ঘোষিত সম্পদের হিসাব এবং ফোরেনসিক তদন্ত না হওয়া নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর সঙ্গে তাঁর বর্তমান ঘোষিত নিট সম্পদের তফাৎ চোখে পড়ার মতো। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, সুভাষ চন্দ্রের মোট সম্পত্তি বা নিট মূল্য আনুমানিক ৪৫,৮৮৮ কোটি টাকা প্রত্যয়িত হয়েছিল। ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর নিট সম্পদ ধরা হয়েছিল ৪০,৫৬২ কোটি টাকা। বর্তমানে তাঁর দাখিল করা নিট সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩১.৭৯ কোটি টাকা। সম্পদের এত বড় অংকের গরমিল সত্ত্বেও কেন কোনো ফোরেনসিক তদন্ত করা হলো না তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।