পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অলিম্পিকের বিভিন্ন বিভাগে ভারতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যেসব খেলায় ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব কম কিংবা একেবারেই নেই, সেই সব খেলায় ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করে তাঁদের গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

‘খেলো ইন্ডিয়া’ নিয়ে তরুণদের উদ্দেশে ভার্চুয়ালি ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘২০৩৬ সালের অলিম্পিকের প্রস্তুতি তৃণমূল স্তর থেকে শুরু হওয়া উচিত। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের জন্য দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি প্রাথমিক পর্যায়েই ক্রীড়া প্রতিভা শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবার লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময়  ক্রীড়াক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জের প্রতি দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এই চ্যালেঞ্জ অলিম্পিক সম্পর্কিত।

বাস্তব সত্য হল, অলিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত খেলাগুলির মধ্যে অর্ধেকেরও কম ইভেন্টে খেলায় ভারতীয় দল অংশগ্রহণ করে। এই সীমিত অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয় এবং এটা সামগ্রিক পদক তালিকায় ভারতের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।’

পদক সংখ্যা বাড়াতে হলে, ঐতিহ্যগতভাবে যেসব খেলায় ভারত শক্তিশালী নয়, সেইসব খেলায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এমনই জানিয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, ‘এমন অনেক খেলা আছে, যেগুলোর নাম দেশের মানুষ হয়তো শুধু শুনেছে।

অন্যান্য দেশ সেইসব খেলায় পদক জেতে। আর আমরা সেইসব খেলায় অংশগ্রহণ করি না। পদকের সংখ্যা বাড়াতে হলে আমাদের এই খেলাগুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যেমন, সার্ফিং এবং স্পোর্টস ক্লাইম্বিং ইত্যাদি।

জল, পর্বত ও শীতকালীন ক্রীড়ার মতো শাখায় ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত ও লালন-পালন করার সুযোগ হিসেবে মোদি ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখা, পর্বতমালা এবং বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এত দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং এত বিশাল পার্বত্য অঞ্চল রয়েছে, যেখানে এই ধরনের খেলাধূলার স্বাভাবিক আকর্ষণ থাকতে পারে।

জল ও শীতকালীন ক্রীড়ার জন্য ভৌগোলিক অবস্থানও রয়েছে। অথচ এই ধরনের খেলাধূলায় আমাদের তেমন দেখা যায় না।’

তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া শাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়া পরিমণ্ডল গড়ে তোলার মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় আমাদের এমন সুযোগ তৈরি করতে হবে, যেখানে একটা বিশেষ ক্রীড়া পরিমণ্ডল গড়ে উঠতে পারে।’ ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের জন্য ভারতের প্রস্তুতির সঙ্গে এই উদ্যোগকে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনোযোগ শুধু পরিকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং এমন ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করার দিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত, যারা এই গেমসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম। ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের প্রস্তুতির সময় আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন খেলোয়াড় তৈরি করা, যারা বিভিন্ন খেলায় যোগ্যতা অর্জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।’