পুবের কলম, ওয়াশিংটন: ইরান থেকে ভারতে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি বা সেই আমদানিতে সহযোগিতার অভিযোগে চারটি ভারতীয় সংস্থা এবং তিন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের আর্থিক ‘লাইফলাইন’ বা অর্থনৈতিক সংযোগগুলিকে চাপে রাখার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা সংস্থা ও দেশগুলিকে ভবিষ্যতে ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র মুখে পড়ার সতর্কবার্তাও দিয়েছে আমেরিকা।


নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে কাস্টমস ব্রোকারেজ সংস্থা পোর্টিজ পার্টনার্স এলএলপি। সংস্থাটির অংশীদার ইদ্রিজ মিঞা আশরাফ মিঞা শেখ এবং হরিশ রামচন্দ্র রঙ্গিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, তাঁরা ভারতে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পাঠানোর একাধিক চালানে সহযোগিতা করেছিলেন। এছাড়া সদাশিব ওভারজিজ লিমিটিড, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুটিজ ইনফ্রা ইম্পেক্স প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিপি সফটটেকের ডিরেক্টর প্রশান্ত গর্গও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বরের পর ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনা, অধিগ্রহণ, বিক্রি, পরিবহণ বা বিপণনের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য লেনদেনে ‘পোর্টিজ’ জড়িত ছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থার আমেরিকায় থাকা বা মার্কিন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণাধীন সমস্ত সম্পত্তি ও সম্পত্তিগত স্বার্থ ‘ব্লক’ করা হবে। মার্কিন নাগরিক বা সংস্থাগুলি ওএফএসির অনুমতি বা বিশেষ ছাড় ছাড়া তাঁদের সঙ্গে অর্থ, পণ্য বা পরিষেবা সংক্রান্ত লেনদেন করতে পারবে না। ৫০ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলিও এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়বে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাকে শাস্তি দেওয়া নয়, তাঁদের আচরণে পরিবর্তন আনা। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তরা চাইলে ওএফএসির কাছে আবেদন করে এসডিএন তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।