ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের তেল বিক্রির রাজস্ব, আর্থিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ বন্ধ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর উপরও চাপ বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই অভিযানের লক্ষ্য ইরান সরকারের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া। তাঁর দাবি, ইরানের তেল পাচার ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার বিভিন্ন নেটওয়ার্কের চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে এবং সেগুলি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক কর্মসূচি, সাইবার কার্যক্রম ও তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানের তেল পরিবহণ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কও এর আওতায় এসেছে।
এর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌ-পরিবহণ খাতেও ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও কিছু পুরনো সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে তারা সহযোগিতার সুফল পাবে, আর ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।