উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের হাতে অন্তত ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে নতুন একটি হেলিপ্যাড উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই কিমের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, উত্তর কোরিয়ার হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত ছিল না। তাঁর কথায়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দিতেন না।

কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কিমের সঙ্গে তাঁর ‘খুবই ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে এবং তিনি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতাকে ভালোভাবেই চেনেন।

একই সঙ্গে ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে আগামী নভেম্বরে চীন সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২১টি দেশের জোট এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক)-এর সম্মেলনে যোগ দিতে ওই সফর হওয়ার কথা। সেই সফরের সময় কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কিমের সঙ্গে দেখা করতে তিনি আগ্রহী।

উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি উত্তর কোরিয়ার কোনও সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক হয়।

২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে প্রথমবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প ও কিম। পরের বছর ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয় বৈঠক হয়। একই বছরের জুনে দুই নেতার তৃতীয় সাক্ষাৎ হয় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিক এলাকায়। সেবার প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন ট্রাম্প।