নবান্নে বিরোধী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের মাঝে আচমকাই ফিরে এল রাজনৈতিক জীবনের পুরনো অধ্যায়। শুক্রবার বিরোধী বিধায়কদের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকের পর অতীতের স্মৃতিচারণায় মেতে উঠলেন শুভেন্দু অধিকারী। একসময় যাঁরা তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রী ছিলেন, তাঁদের সামনেই উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার সেই পর্বের কথাও।
এসআইআর-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার দুপুরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৩ জন বিধায়ক নবান্নে যান। বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়-সহ একাধিক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হওয়ার পরই পরিবেশ কিছুটা হালকা হয়ে আসে বলে সূত্রের দাবি।

পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মীদের দেখে স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন শুভেন্দু। একসময় তৃণমূলে তাঁর সঙ্গে কাজ করা ফিরহাদ হাকিমের দিকে তাকিয়ে তিনি নাকি বলেন, “কেন তৃণমূল ছেড়েছি, ববিদারা সব জানে।”
এরপর উঠে আসে প্রয়াত তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। সূত্রের দাবি, শুভেন্দু বলেন, “সুব্রতদা, আমি ক্যাবিনেট বৈঠকে কত বিষয়ে আলোচনা করতাম—ববিদারা জানে।” পুরনো দিনের সেই রাজনৈতিক পর্বের কথা বলতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যে আবেগের ছোঁয়াও ছিল বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে নিজের পুরনো স্মৃতিও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি নাকি বলেন, “২০১১ সালের ২১ জুলাই মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলাম।
আমার হাত থেকে মাইক নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম, আর তৃণমূল করা যাবে না।” সেই সময় থেকেই দলে ‘ভাইপো রাজ’-এর সূচনা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন বলে সূত্রের খবর।
বৈঠকের পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে ফের আলোচনায় বসেন বিরোধী বিধায়কেরা। সেখানেই ফিরহাদ হাকিম শুভেন্দুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেন বলে জানা গিয়েছে। ফিরহাদ নাকি বলেন, “জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—তিন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছি। শুভেন্দুর আন্তরিকতা বেশি।
এমনটা দেখিনি। শুনেছি, বিধান রায়ও এমনই আন্তরিক ছিলেন।”
বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী নেতাদের দাবি, আলোচনার এক পর্যায়ে তৃণমূলে থাকার সময়কার নানা স্মৃতিও ভাগ করে নেন শুভেন্দু। ফলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে কিছুক্ষণের জন্য নবান্নের বৈঠক যেন পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণার আসরে পরিণত হয়েছিল।
এদিকে, বিরোধী বিধায়কদের নবান্নে আপ্যায়ন নিয়েও ছিল বিশেষ আয়োজন। সূত্রের খবর, বৈঠকে যোগ দিতে আসা ১৩ জন বিধায়কের জন্য চা ও ব্ল্যাক কফির পাশাপাশি ফিশরোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ, মিষ্টি ও কুকিজ-সহ নানা পদ পরিবেশন করা হয়।
রাজনৈতিকভাবে একে অপরের বিপরীত মেরুতে থাকলেও, নবান্নের এই বৈঠকে পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেন্দুর কথোপকথন এবং অতীতের স্মৃতিচারণা এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।