পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চোখের চিকিৎসার জন্য তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিলেও, তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন। এর পরেই বিচারক তাঁর বিদেশ যাওয়ার আর্জিটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন।

এদিন হাই কোর্টে শুনানিপর্বে বিচারপতি জানান, অভিষেকের চোখের চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি হলেও, তা ভারতেই সম্ভব কি না, তা আগে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সেই উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোয় এসএসকেএমের চক্ষু বিভাগের প্রধানকে নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, বোর্ড যদি মনে করে এই রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, তবেই বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞান যে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন বিচারপতি।

আদালতের এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা ম্যামেন জন।

তিনি আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর মক্কেল এসএসকেএমের ওই মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে কিছুতেই উপস্থিত হবেন না। আইনজীবীর যুক্তি ছিল, অভিষেক বর্তমানে পুলিশ বা জেল হেফাজতে নেই, তাই জামিনে থাকা একজন ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য কোনও স্বাধীন বোর্ডের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে না। তিনি আমেরিকার যে নিউরো-অপথ্যালমোলজিস্টের অধীনে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন এবং যেখানে ইতিমধ্যেই তাঁর দু'বার চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেখানেই তিনি চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। নিজের পছন্দের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকেন্দ্র নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার তাঁর মক্কেলের রয়েছে বলেও দাবি করেন আইনজীবী।
পাশাপাশি জানানো হয়, অভিষেকের কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকায় তাঁর গতিবিধি নজরদারি করা সহজ এবং তিনি আগেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।

অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার এই বিদেশযাত্রার আর্জির কড়া বিরোধিতা করেন। রাজ্যের যুক্তি ছিল, অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলে তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। দু'পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি চূড়ান্তভাবে জানতে চান অভিষেক এসএসকেএম-এ যেতে রাজি কি না। তাঁর আইনজীবী পুনরায় নেতিবাচক উত্তর দিলে, নির্দেশ লেখার সময় বিচারপতি অভিষেকের মামলাটি খারিজ করে দেন। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সাত দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য হাই কোর্টে এই শুনানি চলছিল।