পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এ বার দলেরই নেতা-কর্মীদের তোলাবাজি নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের পর তিনিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতিতে জড়ালে কাউকে রেয়াত করা হবে না। তোলাবাজির প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট নেতা বা কর্মীকে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। দলের অন্দরে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দুর্নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

 তৃণমূল সরকারের আমলের কাটমানি, সিন্ডিকেট ও তোলাবাজিকে হাতিয়ার করেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিল বিজেপি।

তবে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। এই প্রসঙ্গে সোমবার অগ্নিমিত্রা জানান যে, রক্তমাংসের মানুষ নতুন ক্ষমতায় আসীন হয়ে হয়তো ভেবেছিলেন এভাবেই রোজগার করা যাবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের রাজ্য সভাপতির কড়া অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, দুর্নীতি রুখতে ইতিমধ্যেই চারটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। বেআইনি টোল, সিন্ডিকেট, তোলাবাজি বা মদের ঠেক সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ সাধারণ মানুষ নাম গোপন রেখেও সেখানে জানাতে পারবেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে বা কাউকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

অগ্নিমিত্রা জোর দিয়ে দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার আগের সরকারের মতো আড়ালে ‘৭০-৩০’ শতাংশের ভাগবাঁটোয়ারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাঁরা যা প্রতিশ্রুতি দেন, সেটাই পালন করেন। অন্যদিকে, রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও সোমবার দলের কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করে নেন যে, তোলাবাজির এই দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি রাতারাতি নির্মূল হওয়া কঠিন, তবে দল বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে। সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে পুলিশ ও দলকে অভিযোগ জানানোর আবেদন করে দিলীপ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যেই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০ থেকে ২৫০ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর আগে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কর্মীদের নিজেদের আচরণ শুধরে নেওয়ার জন্য পনেরো দিনের চরমসীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে দলের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চরম কড়া অবস্থান নিচ্ছে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।