পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে অব্যাহত রয়েছে ভাঙন। ইতিমধ্যেই দলের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, আবার বেশ কিছু নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ভিড়েছেন। দলত্যাগীদের এই দীর্ঘ তালিকায় প্রাক্তন মন্ত্রীদের নামও রয়েছে। এবার সেই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী তথা রাজ্যের প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজাকে ঘিরেও ঘাসফুল শিবির ছাড়ার জোরাল জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শনিবার তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে, অর্থাৎ মাত্র ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে শশী পাঁজার উপস্থিতি এই জল্পনার সূত্রপাত ঘটায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সেই বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের অন্যতম, যাঁরা বর্তমানে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে কেন্দ্রে এনডিএ জোটের শরিক হয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে বসতেও দেখা গিয়েছিল। পেশায় দু'জনেই চিকিৎসক হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাকলির ‘ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ’-এ শশী পাঁজার প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠককে নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহল।
যদিও শশী পাঁজা নিজে দাবি করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ 'এমনিই' সেখানে গিয়েছিলেন।আরও পড়ুন:
তবে রবিবার সকালে এই দলবদলের জল্পনায় নতুন করে ইন্ধন জোগায় কাকলি-পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেখানে তিনি সরাসরি দাবি করেন যে, খুব শীঘ্রই শশী পাঁজা তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে চলেছেন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়।
গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য তাঁর সঙ্গে ফোনে বা মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নিজের গড় শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন টানা তিনবারের বিধায়ক শশী পাঁজা। নির্বাচনের পর থেকে তাঁকে সেভাবে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে তাঁর কন্যা তথা কলকাতা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পূজা পাঁজাকে কালীঘাটের ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় অনেকেই অনুমান করেছিলেন যে শশী পাঁজা হয়তো মমতার সঙ্গেই থাকছেন। কিন্তু শনিবারের এই কাকলি-শশী সাক্ষাৎ রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।