মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দ্রুত একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যায়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি সম্ভাব্য সামরিক অভিযান বাতিল করেছেন।


তিনি জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত হুমকির স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করা।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমনকি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর "ভয়াবহ আঘাত" হানতে প্রস্তুত।


নিজের পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল, যার মাত্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি। তবে আলোচনার সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিয়েই সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্তে ইসরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইসরায়েল বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আকাশসীমা বন্ধ, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং ভ্রমণ জটিলতার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।