আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে মিড ডে মিল সরবরাহ শুরু হল। শনিবার তারাতলায় অত্যাধুনিক মেগা কিচেনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের আগে ইসকনের আয়োজিত যজ্ঞে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রান্নাঘর পরিদর্শন করেন তিনি। প্রতীকীভাবে মিড ডে মিল রান্নাতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ও স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঁচটি সরকারি স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়া উপস্থিত ছিল। পরে ইসকনের মেগা কিচেন থেকে স্কুলগুলিতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ ইলেকট্রিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেগা কিচেনে প্রস্তুত হওয়া খাবার বিশেষভাবে সিল করা কনটেনারে করে ইলেকট্রিক গাড়ির মাধ্যমে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে। খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুলে পৌঁছানোর পর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতেই কনটেনারের সিল খোলা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মিড ডে মিল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়িয়ে মাথাপিছু ১০ টাকা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ইসকনের খাবারের পাশাপাশি সপ্তাহে দু'দিন করে ডিমও সরবরাহ করবে রাজ্য সরকার।

ইসকনকে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা থাকবেই, তবে এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধুই পড়ুয়াদের উন্নত মানের, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, “আমরা ইসকনের খাবার গ্রহণ করেছি, পাশাপাশি রাজ্য সরকার সপ্তাহে দু'দিন ডিমও দেবে।

আশা করি, এবার এই নিয়ে অযথা বিতর্ক বন্ধ হবে।”

মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কোনও রাঁধুনির কাজ যাবে না। খাবার সরবরাহ-সহ বিভিন্ন কাজে তাঁদের যুক্ত করবে ইসকন। একই সঙ্গে আগস্ট মাস থেকে রাঁধুনিদের মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করার ঘোষণাও করেন তিনি।
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা শুধু সমালোচনা করেন, তাঁরা একদিন স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের পরিবেশিত খাবার খেয়ে দেখুন। আমাদের লক্ষ্য রাজ্যের প্রতিটি শিশুর পাতে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়া।”