পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্য জুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক? পাক-যোগ এবং জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে সদ্য গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডলের তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে গোয়েন্দাদের হাতে। রবিবার সকালে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকার পিলখানায় ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে হামিমের একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই কারখানার আড়ালেই হয়তো বোনা হচ্ছিল নাশকতার জাল।

স্থানীয় সূত্রে খবর, হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল প্রায় আট মাস আগে পিলখানার ওই আবাসনে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন।

সেখানে মূলত কাপড়ে ট্যাগ লাগানোর কাজ চলত বলে দাবি করা হলেও, গোয়েন্দাদের সন্দেহ এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকতে পারে। কারখানায় তিন জন পুরুষ ও এক জন মহিলা কর্মী কাজ করতেন এবং হামিম নিজে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করে বাবাকে সাহায্য করতেন। তাঁরা ওই একই আবাসনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকতেন। এই কারখানা থেকেই কোনও নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছিল কি না, তা এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, আদতে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বাসিন্দা হামিমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ মিলেছে পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভট্টি এবং তার সঙ্গী আজমল গুজ্জরের।

সমাজমাধ্যমে মন্তব্যের সূত্র ধরেই শাহজ়াদের সঙ্গে হামিমের আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজ়াদের এই চক্রের মূল মদতদাতা হল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। গত কয়েক বছর ধরে ভারতে মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং সেই টাকায় নাশকতা চালানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে শাহজাদের বিরুদ্ধে।

 হাওয়ালা মারফত হামিমের কাছে বেশ কিছু টাকা পৌঁছেছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, রাজ্যে নাশকতার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের উপর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হামিমকে। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন চ্যাট এবং নথি থেকে গোয়েন্দাদের অনুমান, খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপরও নজর রাখার চেষ্টা করছিল সে। তবে সেই নজরদারি সংক্রান্ত প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল বা ঠিক কোন পর্যায়ে ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।