প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যারা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করেন, তাদের আগে নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও কর্মকাণ্ড ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা আত্মসমালোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা উচিত।
আরও পড়ুন:
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘেই বলেন, ইরান একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ। ইসলাম গ্রহণের পর ফিকহ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যসহ ইসলামী সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে দেশটি।
আরও পড়ুন:
তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ইসলামে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় না ভাষা, জাতি বা বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতির ভিত্তিতেই প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয়।
আরও পড়ুন:
বাঘেইর ভাষায়, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কেউ মহানবি (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি দাবি করতে পারেন না। প্রকৃত অনুসরণ নির্ভর করে ইসলামের ন্যায়বিচার, সত্য ও নৈতিকতার আদর্শ মেনে চলার ওপর।
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইরান সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের নীতি অনুসরণ করেছে। এমনকি ইরানের ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে গঠিত রাষ্ট্রগুলোর প্রতিও একই নীতি বজায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কোরআনের শিক্ষা ও মহানবি (সা.)-এর সুন্নাহর প্রসঙ্গ টেনে বাঘেই প্রশ্ন তোলেন, একটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানো শক্তিকে সহযোগিতা করা বা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় দেওয়া কীভাবে ইসলামের ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে?
তাঁর দাবি, এসব প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর বিবেকেই স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।আরও পড়ুন:
সম্প্রতি বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়ে মহানবি (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। এর জবাব হিসেবেই বাঘেইর এই মন্তব্য এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।