পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:, পলাশি: বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলা বাংলা ও বাঙালির কাছে আবেগ। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাস মানুষের মুখে মুখে আজও ঘোরে। কিন্তু নবাব সিরাজউদৌলার স্মৃতি ধরে রাখতে সেভাবে কাজ হয় না। পলাশীর যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে রেজিনগরের ফরিদপুর গ্রামে শুয়ে আছেন নবাব সিরাজউদৌলার বিশ্বস্ত সৈনিক মীরমদন। তার কবরস্থানে মাল্যদানের মাধ্যমে সম্মান জানিয়ে নবাবের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গঠিত হলো রেজিনগর নবাব সিরাজউদৌলা সাহিত্য পরিষদ।

এ বিষয়ে মীর মদনের কবরস্থানের খুব কাছেই রামপাড়া মাঙ্গনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন সকালে নবাব সিরাজউদৌলা সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে মীর মদনের সমাধিস্থলে গিয়ে শহীদ সেনাপতিকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়।

এদিন বিবিপিপিএফের রাজ্য সভাপতি গোপা মুখার্জি পলাশীর যুদ্ধ ও তার আগে-পরে এবং নবাব সিরাজদৌলাকে নিয়ে পলাশী যুদ্ধের ইতিহাস ও তার তাৎপর্য দর্শকদের সামনে আলোকপাত করেন।

তারপর রামপাড়া মাঙ্গন পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে  সারাদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চারা গাছ বিতরণ কবিতা পাঠ, কবি সাংবাদিক বিশিষ্টজন, কৃতি ও সমাজসেবীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু কবি সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি প্রেমী মানুষ উপস্থিত হন।

পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে এসেছিলেন কবি রমজান আলী। তিনি বলেন, আমার  মধ্যে একটা আবেগ কাজ করছিল নবাবের জন্য। আমার মত আরও অনেকে এসেছে বর্ধমান শিলিগুড়ি থেকে। নবাব সিরাজউদৌলার নামে এমন একটি অনুষ্ঠান বেশ প্রশংসার যোগ্য।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক মোহাদ্দেস সেখ বলেন, পাশেই পলাশী যুদ্ধ ক্ষেত্র।

আর আমাদের এখানে তো মীরমদনের কবর রয়েছে। খুব একটা মানুষ এ সম্পর্কে জানে না। বাংলার নবাব এবং মীরমদনকে আরো মানুষ যাতে বেশি বেশি করে জানতে পারে তাই আমরা এই উদ্যোগটি নিয়েছি। আমরা মীরমদনকে যেমন সম্মান জানিয়েছি তেমনি বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের নামে এই সাহিত্য পরিষদটি গঠন করলাম। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন মানুষকেই আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এবং একটি সাহিত্য পত্রিকারও আত্মপ্রকাশ ঘটল। 

অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপিকা দেবযানী ভৌমিক চক্রবর্তী, কবি ও সম্পাদক সাহাবুল ইসলাম, কবিতাওয়ালা আজিবর মন্ডল, রেজিনগর থানার ওসি তপাই বিশ্বাস, গোপা মুখার্জি প্রমুখ।