পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অসমের হাইলাকান্দি জেলায় এক নৃশংস ও হাড়হিম করা ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। আততায়ীদের তাণ্ডবে নাবালিকার দেহ ও মুখমণ্ডল এমনভাবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হয় যে, পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সন্তানকে প্রথম দর্শনে চিনতেই পারেননি। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার আনুমানিক রাত ১১টা নাগাদ কাটলিছড়া থানা এলাকার আলইছড়াতে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে কিশোরীটি তার পরিবারের সঙ্গে কাছেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে ভোজের নিমন্ত্রণে গিয়েছিল।

কিন্তু সেখানে এক তুতো ভাইয়ের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে বচসা হওয়ায় সে একা একা রাগ করে বাড়িতে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর স্বজনরা ভোজ থেকে বাড়ি ফিরে এসে দেখতে পান ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে কিশোরীর নিথর দেহ। পরিবারের অভিযোগ, আততায়ীরা রড দিয়ে আঘাত করে তার মাথা ও মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ থেঁতলে দেয়। এমনকি পাশবিকতার সব সীমা ছাড়িয়ে তার গোপনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের একটি সূত্রে উঠে এসেছে। এই নারকীয় ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা হাইলাকান্দি এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

ঘটনার ভয়াবহতা স্বীকার করে সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অমিতাভ সিনহা জানান, পুলিশ একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসএসপি সিনহা বলেন, "পরিবারের পক্ষ থেকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই আমরা মৃত্যুর সঠিক কারণ ও যৌন নিপীড়ন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারব। আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ঘটনাটির তদন্ত করছি।"