পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের দু'টি পৃথক আগাম জামিনের আবেদনে মিশ্র নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে হওয়া শুনানিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি সংক্রান্ত একটি জমি জালিয়াতি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ডেবরায় টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অন্য একটি মামলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁকে আগাম জামিন দিয়েছে আদালত। আগামী দশ দিনের মধ্যে তাঁকে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালবনিতে প্রায় পঞ্চাশ একর সরকারি জমির ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে বিক্রির একটি বড় চক্রের হদিশ মিলেছিল। এই ঘটনায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা-সহ একাধিক ব্যক্তি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এবং তদন্তে সুমিত রায়ের নামও জড়িয়ে পড়ে। তাঁর খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন থেকে শুরু করে আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশও জারি করা হয়। এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ, ধৃতদের বয়ান ও এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে এই মুহূর্তে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা সঠিক পদক্ষেপ হবে না। ফলস্বরূপ, এই মামলায় তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে গেল।

অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার একটি অভিযোগেও তাঁর নাম জড়ায়। রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানান যে, সুজয় হাজরার মাধ্যমে মোট চব্বিশ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল, যার মধ্যে ছয় লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক মারফত লেনদেন হয়।

এই মামলায় ধৃত সুজয় হাজরা এবং আশিক কাজি ইমাম তাঁদের বয়ানে সুমিত রায়কে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি রাজ্যের। সেই প্রেক্ষিতে তাঁকে প্রভাবশালী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

যদিও সুমিত রায়ের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেন। তিনি আদালতে সওয়াল করেন যে, মূল এফআইআর-এ তাঁর মক্কেলের কোনও নামই ছিল না। নিছক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক হওয়ার কারণেই তিন বছর পর তাঁকে কাল্পনিক গল্প ফেঁদে ফাঁসানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি, ধৃতদের থেকে টাকা লেনদেনের কোনও বৈদ্যুতিন প্রমাণ বা ইমেইল মিলেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।