পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দির অনুদান চুরির বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ও ধনকুবের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে। এমএনএস-এর ছাত্র সংগঠনের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেন, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্ট থেকে প্রতি বছর পরিকল্পনা করে অন্তত ১৮ কোটি টাকার অনুদান চুরি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ের এই সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টটি বর্তমানে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ও তাঁদের রাজনৈতিক জোট সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 
রাজ ঠাকরে জানান, অযোধ্যার রাম মন্দির থেকে ১,৪০০ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার রিপোর্টের পর এবার সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের এই কোটি কোটি টাকার চুরির ঘটনা প্রমাণ করে যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও আর দুর্নীতিমুক্ত নয়।

তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ট্রাস্টের আটজন ট্রাস্টি উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সতর্ক ট্রাস্টিদের নজরদারিতে মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরি করতে গিয়ে একাধিক কর্মচারী হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। 

এমএনএস প্রধানের দাবি, এই চুরির ঘটনা সামনে আসার আগে মন্দিরের সাপ্তাহিক অনুদান সংগ্রহ থাকত ৫০ লাখ টাকার নিচে। কিন্তু চোর ধরা পড়ার পর সেই সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ায় সপ্তাহে প্রায় ১.৫ কোটি টাকায়।

অর্থাৎ, প্রতি বছর গড়ে ১৮ কোটি টাকার অনুদান তছরুপ করা হচ্ছিল। 

সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মোদির দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ ঠাকরে বলেন, "অযোধ্যার রাম মন্দিরের ট্রাস্টি পদে আরএসএস, বিজেপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা রয়েছেন। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের দায়িত্বে রয়েছে বিজেপির জোটসঙ্গী শিবসেনা। এই দুই বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবিলম্বে মুখ খোলা উচিত, না হলে সাধারণ মানুষ মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে সমস্ত আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।"
 
রাজ ঠাকরের এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর মুখ খুলেছেন সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তথা শিন্ডে গোষ্ঠীর প্রাক্তন বিধায়ক সদা সরভণকর। তিনি জানান, মন্দিরে ভিআইপি দর্শনের নামে ঘুষ নেওয়া ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশ এবং অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর কাছে তিনি নিজেই প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।