পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: 'কাকরোচ জনতা পার্টি'-র সংসদ ভবন অভিযান চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের ওপর ঠিক কতটা বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল, তা গোপন রাখার অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ উঠছে, জবাবদিহিতা এড়াতেই পুরো অভিযানের মূল তথ্য চেপে রাখা হচ্ছে। গত ২০ জুলাইয়ের এই বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। যখন পুলিশ প্রাথমিকভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট বন্দুক ব্যবহারের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে। তবে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের দায়ের করা একটি জেনারেল ডায়েরি এন্ট্রি থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশের নির্দেশেই দুই রাউন্ড পেলেট গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল।

এদিকে ঘটনার ১০ দিনেরও বেশি সময় কেটে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ না করায় এটি পরিকল্পিত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বলে অভিযোগ উঠছে। প্রাক্তন এক পুলিশ প্রধান (ডিজিপি) দাবি করেছেন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের দায় থেকে কর্মকর্তাদের বাঁচাতে সচেতনভাবেই এই স্বচ্ছতার অভাব বজায় রাখা হচ্ছে।

এই দমনপীড়নের জন্য বিরোধী দলগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করেছে। কারণ দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে।

বিরোধীরা অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, যন্তর মন্তর, সংসদ মার্গসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং নির্মম শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের কিছু লাঠিতে পেরেক পর্যন্ত লাগানো ছিল। পেলেট বন্দুকের গুলিতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিল্লির এক ১৯ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সারিল লোচাব মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারাতে পারেন।