পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর জোর করে বাণিজ্য শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তে নিজের দেশেই প্রবল বাধার মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই একতরফা শুল্কনীতির বিরোধিতায় নিউ ইয়র্কের বাণিজ্য আদালতে মামলা দায়ের করেছে আমেরিকার ২৫টি ডেমোক্র্যাট শাসিত প্রদেশ। তাদের মূল অভিযোগ, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আগেই ট্রাম্পের এই শুল্কনীতিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালতের সেই রায়কে কার্যত উপেক্ষা করেই তিনি ঘুরপথে নিজের ইচ্ছামতো বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক আরোপ করে চলেছেন, যার ফলে খোদ আমেরিকার সামগ্রিক আমদানি ব্যবস্থাই চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রশাসনের যুক্তি ছিল, যে সমস্ত দেশ জোরপূর্বক শ্রম রুখতে কড়া আইন প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের পণ্যের উপর এই অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হবে। এই অভিযোগ তুলে ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল এবং সুইৎজারল্যান্ডের মতো প্রায় ৬০টি দেশের উপর নতুন করে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ করের বোঝা চেপেছে। ডেমোক্র্যাট প্রদেশগুলির দাবি, আইনের এই বিশেষ ধারাটি কেবল সেই সব নির্দিষ্ট দেশের জন্য ব্যবহৃত হতো যারা অনৈতিকভাবে ব্যবসা করে। কিন্তু বর্তমানে সেটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বেআইনিভাবে শুল্ক চাপাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।আরও পড়ুন:
ভারতের জন্য দুশ্চিন্তা এখানেই শেষ নয়। জানা গিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর চিন্তাভাবনাও চলছে। আমেরিকা সম্প্রতি এমন একটি নতুন আইন পাশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে জ্বালানি ও শক্তিসম্পদ আমদানি করা দেশগুলির উপর বিপুল অঙ্কের শুল্ক চাপানো হতে পারে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। মার্কিন সেনেটে বর্তমানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই বিলটি অনায়াসেই পাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে তা ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক বিরাট বড় ধাক্কা হতে পারে।