পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে জনসুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর হারের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে দেওয়া এই দীর্ঘদিনের খাসতালুক হাতছাড়া হওয়ায় পদ্মশিবিরে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। দলের অন্দরের প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দলের একাংশের নেতিবাচক অহংবোধই এই ভরাডুবির মূল কারণ। বিজেপির দুই প্রধান শরিক দল নীতীশ কুমারের জেডিইউ এবং চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি-ও এই হারের নেপথ্যে নেতাদের দাম্ভিকতাকেই দায়ী করছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, উপনির্বাচনের আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের একটি মন্তব্য ভোটারদের চরম ক্ষুব্ধ করেছিল।

তিনি দম্ভভরে দাবি করেছিলেন যে, বিজেপির টিকিটে বাঁকিপুরে কোনও কুকুর বা বিড়াল দাঁড়ালেও জয় নিশ্চিত। এলজেপি এবং খোদ বিজেপির অন্দরমহল থেকেই প্রবীণ নেতার এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বিহারের এক বিজেপি সাংসদ স্বীকার করেছেন যে, যোগ্য বিরোধীর অভাবের যুক্তিতে দল যা খুশি তাই করতে পারে বলে যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছিল, ভোটের এই রায় তারই যোগ্য জবাব। পাশাপাশি, ককরোচ জনতা পার্টির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ যুবসমাজ তথা বিজেপির নিজস্ব ভোটব্যাঙ্কেও গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যার ফলে মানুষ নতুন মুখের সন্ধানে প্রশান্ত কিশোরকে বেছে নিয়েছেন।

নীতীশ কুমারকে সরিয়ে সম্রাট চৌধরীকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর পর এটিই ছিল বিজেপির প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা।

জেডিইউ সূত্রের খবর, বিহারের জটিল জাতপাতের সমীকরণকে নীতীশ কুমার যে মুন্সিয়ানায় সামলেছিলেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট তাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনে জয়ের পর প্রশান্ত কিশোরও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। তিনি জানান, বাঁকিপুরের এই রায় আসলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি বিহারবাসীর একটি স্পষ্ট বার্তা। রাজ্যের মানুষ এমন একজন পরিচ্ছন্ন ও যোগ্য মুখ্যমন্ত্রী চান, যাঁর কোনও অপরাধমূলক অতীত নেই এবং যাঁর আচরণ বা সুনাম নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠবে না।
উল্লেখ্য, বাঁকিপুর কেন্দ্রটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিতিন নবীনের পরিবারের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল।

 ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত পুরনো পটনা পশ্চিম কেন্দ্রে তাঁর বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিন্‌হা টানা চারবার জয়ী হন। এরপর আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত নিতিন নিজে চারবার এই আসনটিতে জেতেন। এমন একটি 'পারিবারিক গড়' হাতছাড়া হওয়ার পর সোমবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিতিন নবীন মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বাঁকিপুর এবং মধ্যপ্রদেশের দতিয়ার উপনির্বাচনের রায় তাঁদের আশানুরূপ হয়নি। তাই নতুন করে এই কেন্দ্রগুলির ফলাফল গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর কাজ চালিয়ে যাবে দল।