পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর। পুজোর আগেই আগামী ১ অক্টোবর থেকে বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পেতে চলেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার নবান্নের অর্থ দফতরের তরফে অতিরিক্ত প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

 রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই বর্ধিত ভাতা নভেম্বর থেকে পাওয়ার কথা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণামতো তা এগিয়ে এনে ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হচ্ছে।

ফলে এখন থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীরা সংশোধিত ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন।
এই সুবিধা কেবল রাজ্য সরকারি কর্মীরাই নন, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং রাজ্যের লক্ষাধিক পেনশনভোগীরাও পাবেন।

 পঞ্চম বেতন কমিশন বা পুরনো রোপা ২০০৯ অনুযায়ী যাঁরা এখনও অসংশোধিত কাঠামোয় বেতন বা পেনশন পান, এক ধাক্কায় তাঁদের মহার্ঘ ভাতা ১৭১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২৩ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, দৈনিক মজুরিতে কর্মরতদের ভাতাও দিনপ্রতি ১১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে অর্থ দফতরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা আন্ডারটেকিংগুলিকে এই ডিএ বৃদ্ধির খরচ সম্পূর্ণ নিজেদের তহবিল থেকেই মেটাতে হবে, এর জন্য সরকার আলাদা কোনও আর্থিক সাহায্য দেবে না।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন সরকারি কর্মী সংগঠন। সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ দ্রুত এই বর্ধিত ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্তে খুশি প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে কলকাতা পুরসভার অবসরপ্রাপ্তদের ডিএ সমস্যা মেটানোর আরজিও জানিয়েছেন দেবাশিসবাবু। অন্যদিকে, বামপন্থী কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত জাতীয় মূল্য সূচক মেনে বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবি তুলেছেন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও বলেছেন, নিয়মটি জুলাই থেকে কার্যকর হলে আরও ভাল হত এবং বকেয়া থাকা বাকি ২২ শতাংশ ডিএ ডিসেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া উচিত।