পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর এবার আসন্ন জনগণনা নিয়েও গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, দেড় দশক পর শুরু হওয়া এই জনগণনার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলিকে, বিশেষত তাঁদের দলকে যুক্ত করা হচ্ছে না। এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তাঁর সংশয়, সেনসাসের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না তো? কার নাম তালিকায় থাকছে আর কার নাম বাদ যাচ্ছে, তা দেখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলির অংশগ্রহণ থাকা উচিত বলে তিনি দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন:
যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতে অবসরপ্রাপ্ত আমলা থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
প্রবীণ সিপিএম নেতা রবীন দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জনগণনার মতো প্রশাসনিক কাজে কোনও কালেই রাজনৈতিক দলগুলির সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে না, দলগুলি কেবল নিজেদের মতো করে বাইরে থেকে নজরদারি চালায়। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচীর কটাক্ষ, বর্তমান রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের মন্তব্য করে সংবাদমাধ্যমে ভেসে থাকতে চাইছেন। প্রসঙ্গত, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই প্রতি মাসের ৪ তারিখে নিয়মিত ফেসবুক লাইভে আসেন মমতা।আরও পড়ুন:
মঙ্গলবারের লাইভে তিনি প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এবং বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে ফের একবার জোটবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
এদিনের লাইভ থেকে রাজ্যে চালু হওয়া 'অন্নপূর্ণা যোজনা'-কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, ইডি-র পদক্ষেপে তৃণমূলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া নিয়েও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি এবং আরএসএস-কে কড়া আক্রমণ করেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিরোধী দলের অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ আরএসএস-এর মতো সংগঠনের কোনও রেজিস্ট্রেশন না থাকা সত্ত্বেও তাদের অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ আসে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেছেন।