পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: লোকসভার স্পিকারের তরফে এখনও স্বতন্ত্র দলের স্বীকৃতি মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সাংসদকে ঘিরে ঘনীভূত হওয়া দলবদলের গুঞ্জনের মাঝেই দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন এনসিপিআই সাংসদরা। দিল্লির বঙ্গভবনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই দীর্ঘ বৈঠকে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

সম্প্রতি এনডিএ-র দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া এবং সংসদ চত্বরে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়।

গুঞ্জন ওঠে, তাঁরা হয়তো ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোনো শিবিরেই ফিরতে চাইছেন। মূলত এনসিপিআই সাংসদ হিসাবে স্বীকৃতি পেতে দেরি হওয়া এবং এনডিএ-র শরিক হিসেবে থাকার বদলে স্বতন্ত্র পরিচয়ের দাবিতেই তাঁদের এই অসন্তোষ বলে জানা গিয়েছিল। সাংসদ আবু তাহের স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মুসলিম স্বার্থবিরোধী কোনও বিল সংসদে এলে তাঁরা তার প্রতিবাদ করবেন এবং উন্নয়ন না হলে তাঁরা জোটে থাকবেন না। এই টানাপোড়েন এবং জল্পনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই তিন ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।

বৈঠক শেষে মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার অবশ্য সমস্ত বিতর্কে জল ঢেলে দিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট জানান, এনসিপিআই ইতিমধ্যেই এনডিএ-কে সমর্থন করেছে এবং ওই তিন সাংসদ তাঁদের দলের সঙ্গেই রয়েছেন। তাঁদের কিছু নিজস্ব সমস্যা ছিল, যা তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি জানিয়েছেন। বাপি হালদারের দাবি, দলের অন্দরে কোনওরকম বিতর্ক নেই। পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মঙ্গলবারের বৈঠকে তা আরও একবার নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বৈঠকের পর আরেক সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের চমৎকার এবং বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে, আলাদা স্বীকৃতির বিষয়টি ঝুলে থাকলেও দিল্লির এই তৎপরতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তিন সাংসদের দলবদলের জল্পনায় আপাতত দাঁড়ি পড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।