উপনির্বাচনের ফলাফল এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হল বিরোধী শিবির। একদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দাবি করেছেন, উপনির্বাচনের ফল বিজেপির ‘শেষের শুরু’র ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলগুলিকে একজোট হয়ে গণতান্ত্রিক লড়াই চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “এটাই বিজেপির শেষের শুরু। উপনির্বাচনের ফলই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির আসনেও মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ বুঝে গিয়েছে দেশে কী চলছে। এ তো কেবল শুরু, সামনে আরও অনেক কিছু দেখার বাকি।”

একই দিনে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের মাভলঙ্কার অডিটোরিয়ামে এমডিএমকে নেতা ভাইকোর সংসদীয় বক্তৃতার সংকলন ‘ভাইকো ইন পার্লামেন্ট’ গ্রন্থের প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা এক মঞ্চে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে ছিলেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, পি. চিদম্বরম, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, ফারুক আবদুল্লা, সুপ্রিয়া সুলে, ডি. রাজা, এম. এ. বেবি এবং জন ব্রিটাস।

যদিও রাজনৈতিক কারণে আম আদমি পার্টি ও ডিএমকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। তবে সংসদের বিভিন্ন ইস্যুতে ডিএমকে বিরোধী শিবিরের সঙ্গেই রয়েছে।

এদিকে কলকাতায় নিজের বাসভবন থেকে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, ছাত্র-যুব আন্দোলন দমনের চেষ্টা চলছে এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “যে যতই কণ্ঠরোধের চেষ্টা করুক, আমরা শান্তি, ঐক্য ও সম্প্রীতির পথেই এগোব।

আমরা একসঙ্গে লড়ব, কাজ করব এবং জয়ী হব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, হাজার হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ দখলের চেষ্টা চলছে। জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষে বিরোধী ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে মমতা বলেন, “সবাই একজোট হয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই করুন।” পাশাপাশি তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কেরও সমালোচনা করেন এবং বক্তব্য শেষ করেন “জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম, জয় বাংলা, জয় নেতাজি” স্লোগানের মাধ্যমে।