পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো শেষ মুহূর্তের অনভিপ্রেত ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) কর্তৃক নিযুক্ত বিষয় বিশেষজ্ঞ, কোচিং সেন্টার পরিচালক, দালাল ও পরীক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক “সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র”। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের দাখিল করা চার্জশিটে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। সিবিআই চার্জশিটে মোট ১৩ জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পুরো প্রশ্ন ফাঁসের পরিকল্পনাটি পরীক্ষা শুরুর বেশ কয়েক মাস আগেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ছক কষা হয়েছিল।


 
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, এনটিএ কর্তৃক নিযুক্ত উদ্ভিদবিজ্ঞান, রসায়ন এবং পদার্থবিজ্ঞানের তিন বিষয় বিশেষজ্ঞ তাঁদের সরকারি পদের অপব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রবেশাধিকার লাভ করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই বিশেষজ্ঞদের অনেক আগেই নিজেদের নেটওয়ার্কে টেনে আনা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁরা মধ্যস্থতাকারীদের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের অংশে পরিণত হন, যার মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর পথ সুগম করা হয়।
 
চার্জশিটে বলা হয়েছে, কোচিং অপারেটর, দালাল এবং বেসরকারি মধ্যস্থতাকারীরা একত্রিত হয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র আদান-প্রদানের জন্য একটি অত্যন্ত গোপনীয় 'সাপ্লাই চেইন' তৈরি করেছিল।
প্রশ্নপত্র বিতরণের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, পিডিএফ ডকুমেন্ট এবং ছবির সাহায্য নেওয়া হতো। বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তদন্তকারীরা নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রশ্নপত্র আদান-প্রদানের পুরো মানচিত্র পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল প্রমাণের মধ্যে চ্যাট, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র রয়েছে।
 
সিবিআই সূত্র জানায়, অভিযুক্ত যশ যাদবের কাছে পাওয়া একটি মোবাইল ফোনে টেলিগ্রাম চ্যাটের পাশাপাশি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের একাধিক পিডিএফ ফাইল মিলেছে। এছাড়া তাঁর ফোনে “AP Broker” নামে সংরক্ষিত একটি নম্বরের সন্ধান পান তদন্তকারীরা, যা পরে সহ-অভিযুক্ত শুভম মধুকর খায়রনারের নম্বর বলে চিহ্নিত করে সিবিআই।