উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: রাজ্যজুড়ে বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে পালিত হচ্ছে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ। ৩ থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা। বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এই উপলক্ষে একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ চলাকালীন একটি মোটরবাইক শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বিপুল সংখ্যক মোটরবাইক আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না, যা সরাসরি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
আরও পড়ুন:
গত বৃহস্পতিবার জয়নগর বিধানসভা এলাকায় বিজেপি নেতা তথা সাগর বিধানসভার ইনচার্জ মিন্টু হালদারের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা হাতে একটি বিশাল মোটরবাইক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় এক হাজারেরও বেশি মোটরবাইক এবং কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। শোভাযাত্রাটি দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বহু বাইক চালক ও আরোহী হেলমেট ব্যবহার করেননি। ফলে রাজ্য সরকার যখন পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বার্তা দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে শাসকদলের বাইরের একটি দলের এই শোভাযাত্রায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
এই বিষয়ে শোভাযাত্রার আয়োজক বিজেপি নেতা মিন্টু হালদার জানান, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য একসঙ্গে হেলমেটের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। যদিও ট্রাফিক আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক এবং নির্ধারিত ক্ষেত্রে আরোহীর হেলমেট পরা আইনত বাধ্যতামূলক। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা চলছে। পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে আইন মেনে চলার বার্তা যখন প্রশাসনের তরফে অত্যন্ত জোরদারভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তখন বৃহৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হেলমেটবিহীন মোটরবাইক চলাচলের ঘটনা সেই বার্তার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ বা সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।