পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, হৃদরোগের ঝুঁকি বলতে সাধারণত ধূমপান, স্থূলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো কারণগুলোকেই সামনে আনা হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও ধীরে ধীরে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য জীবনযাত্রায় কয়েকটি ছোট পরিবর্তনই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অন্যতম বড় শত্রু। অফিসে কাজ, গাড়িতে দীর্ঘ যাত্রা বা টেলিভিশনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে রক্তসঞ্চালন কমে যায় এবং শরীরে ক্যালোরি খরচও হ্রাস পায়।

এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অন্তর কিছুক্ষণ হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াও হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিন সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে প্রদাহ এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।


খাবারে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণও ঝুঁকি বাড়ায়। আচার, প্যাকেটজাত খাবার, সস বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকায় শরীরে পানি জমে যায় এবং রক্তচাপ বেড়ে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাই লবণের পরিবর্তে লেবু, বিভিন্ন ভেষজ পাতা ও প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। কর্মক্ষেত্র, পারিবারিক বা আর্থিক চাপের কারণে রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

পাশাপাশি ধূমপান, অতিরিক্ত খাওয়া বা মদ্যপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসও তৈরি হতে পারে।

 যোগব্যায়াম, ধ্যান, নিয়মিত হাঁটা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফলের রস, এনার্জি ড্রিংক কিংবা বেশি চিনি মেশানো চা-কফি নিয়মিত পান করলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এর পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা সিঁড়ি ব্যবহার হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে কার্যকর। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও জরুরি, কারণ উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাগুলো অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। সময়মতো পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।