পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পূর্বাভাস সত্যি করেই বুধবার বিকেল থেকে কালো মেঘে ঢেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় তিলোত্তমায়। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জেরে কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ঘণ্টার ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 অন্যদিকে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। সেখানে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত চার জন, যাঁদের মধ্যে তিন জন মহিলা।

এছাড়া বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলিতেও বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বুধবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা, নারায়ণগড় এবং খড়্গপুর লোকাল থানা এলাকায় বাজ পড়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নারায়ণগড়ের ঠেঙ্গামারা এলাকায় তাপস সাবরা নামের ৫৯ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খড়্গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত বরগাই এলাকায় বাজ পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন পঞ্চাশ বছরের সুমিত্রা খামরুই। পাশাপাশি, ডেবরা থানার রাধামোহনপুর এলাকায় চাষের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান বছর পয়ষট্টির কাজল নায়েক এবং সাতচল্লিশ বছরের মালতী পাত্র।
ওই একই এলাকায় বাজ পড়ে আরও তিন মহিলা আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বুধবার হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দুই বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবারও দুই মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা, হাওড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং দুই ২৪ পরগনাতেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

শুক্র ও শনিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টিপাত চলবে এবং রবিবার থেকে আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগ চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং গোটা সপ্তাহ জুড়েই এই আবহাওয়া বজায় থাকবে।

 আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, রাজস্থানের বীকানের থেকে বিহারের পটনা এবং উত্তরবঙ্গের মালদহ হয়ে মণিপুর পর্যন্ত একটি মৌসুমি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার ফলেই রাজ্য জুড়ে এই ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।