পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ ১৯ বছরের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দু'মাসের মধ্যেই তাঁর এই সফর ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মহলে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। গত ৩১ জুলাই শহরে পা রাখার পর, বুধবার তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কলকাতা সফরের সমাপ্তি ঘটে। তবে শহর ছাড়ার আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে গিয়েছেন যে, কলকাতা তাঁর অত্যন্ত পছন্দের এবং আপাতত ভারতেই তাঁর বসবাস চলবে।

২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শাসনকালে তসলিমার 'দ্বিখণ্ডিত' উপন্যাসের প্রকাশকে কেন্দ্র করে কলকাতায় প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

সেই সময় সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী পর্যন্ত নামাতে হয় এবং ওই বিতর্কিত বইটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি লেখিকাকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও তাঁর রাজ্যে প্রবেশের উপর সেই অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কলকাতা ছাড়ার প্রাক্কালে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফেরার প্রসঙ্গ উঠতেই লেখিকার কণ্ঠে তীব্র আক্ষেপের সুর শোনা যায়। গত ৩২ বছর ধরে নির্বাসিত জীবন কাটানো এই লেখিকা জানান, তিনি অবশ্যই নিজের দেশে ফিরতে চান, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সেই সুযোগ দিচ্ছে না।

তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণ করছে না। এমনকি তাঁর কাছে থাকা সুইডিশ পাসপোর্টেও বাংলাদেশ সরকার ভিসার অনুমোদন দিচ্ছে না।

তবে তিলোত্তমার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা স্বীকার করেছেন তসলিমা। কলকাতা থেকে তিনি সাধারণ মানুষের অগাধ ভালবাসা এবং বহু অমূল্য স্মৃতি নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। শহরবাসীর আবেগ তাঁকে আপ্লুত করেছে, যা তাঁর চোখে জল এনে দিয়েছে। আসন্ন দুর্গাপুজোয় তিনি অন্য দেশে থাকবেন বলে কলকাতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, আগামী অক্টোবর কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা কলকাতা বইমেলায় তাঁর উপস্থিত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই শহর তাঁকে যখনই ডাকবে, তিনি তখনই আবার ফিরে আসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন।