হাবিব মণ্ডল: অভাবের সংসার। চাষের আয়ে টালমাটালে চলে পরিবার, কিন্তু নিজের রুজি-রোজগারের কথা ভুলে আজ এক অসহায় মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামের কৃষিজীবী আবুল বাশার। পশ্চিমবঙ্গের সাহিদা ফকিরকে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বহু কৌতুহলী মানুষদের জিজ্ঞাসাবাদ, পুলিশ-বিজিবি-র পুছতাছ এবং ঘরে এসে সাংবাদিকদের খোঁজখবর নেওয়ার কারণে তিনি প্রতিদিন মাঠে গিয়ে চাষের কাজ করতে পারছেন না। যে কারণে আবুল বাশারের স্ত্রী, তিন সন্তান আর এখন সাহিদাকে নিয়ে তাদের ৬ জনের সংসারে অভাব মাথাচাড়া দিয়েছে।
আবুল বাশারের দাবি, বেনাপোল এলাকার কাছে কাদামাটি মাখা, অসুস্থ-অসহায় অবস্থায় সাহিদাকে দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। মানবিকতার খাতিরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
হোয়াটসঅ্যাপ কলে পুবের কলম প্রতিনিধিকে আবুল বাশার জানান, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ির সামনে পুলিশ থাকে। বিজিবি বার বার এসে কথা বলছে। সাংবাদিকেরাও আসছেন। সারাদিন এ সব সামলাতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়ছি। চাষ না করলে সংসার চলবে কী করে? তবুও একজন অসহায় মানুষকে তো রাস্তায় ফেলে দিতে পারি না।’
নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কোনোরকমে দিন কাটে তার। তার মধ্যে সাহিদার খাবার, থাকার ব্যবস্থা করছেন তারা। আবুলের স্ত্রী আরিফা বেগম স্বামীর মানবিক সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছেন। তার কথায়, ‘বাংলাদেশি সন্দেহ করে ভারতের পুলিশ সাহিদাকে আমাদের দেশের সীমানার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। জখম অবস্থায় আমার স্বামী তাকে ঘরে নিয়ে এসেছে। সে তো আমার মেয়ের মতোই। যত কষ্টই হোক তাকে বার করে দিতে পারব না। যত দিন না ও নিরাপদে নিজের বাড়ি ফিরছে, তত দিন দেখাশোনা করব। আমরা যা খাব সাহিদাও তাই খাবে।’
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহিদা ফকির। তিনি গত ২০ বছর ধরে স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। সম্প্রতি বাংলাদেশি সন্দেহে বিএসএফ তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছে। আবুল বাশারের কাতর আবেদন, প্রশাসন যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সাহিদাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। মঙ্গলবার ফোনে ভাঙা গলায় সাহিদা জানান, ‘উপরওয়ালা আমাকে এ রকম ভাল মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, না হলে কী হত জানি না! ভারত সরকারের কাছে আবেদন, আমাকে দয়া করে নিজের ঘরে ফিরিয়ে দিন।’