পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চলতি বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের জেরে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানো নিয়ে প্রবল সংশয়ে রয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংসদে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা কাটাতে বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি বলেই খবর।

সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পুনরায় পেশ করার জন্য কংগ্রেসের সহযোগিতা চেয়েছিলেন সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী।

কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে উলটে দু'টি শর্ত চাপিয়ে দেন রাহুল। তাঁর প্রথম দাবি, রাম মন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা নিয়ে সংসদে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর পুলিশের দমনমূলক আচরণের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। রাহুলের সঙ্গে এই বৈঠকের পরেই রিজিজু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে এই অধিবেশনেই লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি পাশ করাতে, যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ফলে বিলটি পাসের বিষয়ে সরকার আশাবাদী হলেও, তারা সমস্ত বিরোধী দলের সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তবে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করে রাহুল এদিন রিজিজুকে জানিয়ে দেন, সংসদে এই বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস এটিকে সমর্থন করবে না।

অন্যদিকে, রাম মন্দিরের প্রণামী চুরি এবং সিজেপি-র বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের ইস্যু তুলে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা সংসদের ভিতরে ও বাইরে তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। বিরোধীদের এই প্রবল বিক্ষোভের জেরে বুধবারও দফায় দফায় মুলতুবি হওয়ার পর শেষে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন সারা দিনের জন্য মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় সরকার।