উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুরের আদি গঙ্গায় বীরভূমের এক যুবকের দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সকালে পুলিশ ওই যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। ঠিক কী কারণে যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তাঁকে খুন করে দেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, নাকি যুবক নিজেই আত্মঘাতী হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সৌমেন চট্টরাজ এবং তাঁর বয়স আনুমানিক ২৯ বছর। তাঁর বাড়ি বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া এলাকায়।

সৌমেন জীবিকার তাগিদে বারুইপুরের সাহাপাড়া এলাকায় থাকতেন এবং একটি পোলট্রি ফার্মের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বারুইপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদাব্রত ঘাটের কয়াল পাড়ায় আদি গঙ্গা থেকে এই দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ উদ্ধারের পরপরই প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশি তৎপরতায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবককে শনাক্ত করেন।

পরিচয় পাওয়ার পর সৌমেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এদিকে দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই এলাকাটি অত্যন্ত অপরিষ্কার এবং এখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। এই ঘটনার পর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের আরও অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এই এলাকায় নিয়মিত নেশার আসর বসে, যার ফলে জায়গাটি অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। কোনো মদের আসরে বচসার জেরে সৌমেন খুন হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।