পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ওড়িশার এক ত্রিমাত্রিক হত্যা মামলায় প্রমাণের তীব্র অভাব এবং তদন্তের মারাত্মক গাফিলতি থাকা সত্ত্বেও এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ ২২ বছর কারাবাসে রাখার ঘটনায় ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। কেবল সন্দেহের বশে গ্রেফতার ও হেফাজতে নিয়ে থার্ড ডিগ্রির নির্যাতন চালিয়ে জবানবন্দি আদায়, নিম্ন আদালতের দুর্বল সাক্ষ্য মূল্যায়ন এবং হাইকোর্টের উদাসীন ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। একজন নির্দোষ মানুষের জীবন থেকে ২২টি বছর মুছে যাওয়ার ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার বহুস্তরীয় ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। এরপরই বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওড়িশা হাইকোর্টের পূর্বের আদেশ ও সাজা বাতিল করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন।

এদিন বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন রায়ে উল্লেখ করেন, "তিনজন মানুষের জীবন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হলো, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে একজনকে হেফাজতে নিয়ে থার্ড ডিগ্রির নির্যাতন চালিয়ে অগ্রহণযোগ্য জবানবন্দি আদায় করা হলো, ট্রায়াল কোর্ট প্রমাণের সঠিক মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হলো এবং হাইকোর্ট নিষ্পত্তির সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে স্রেফ নীরব দর্শক হয়ে রইল; যার সামগ্রিক ফলে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই একটি মানুষের জীবন থেকে ২২টি বছর পুরোপুরি মুছে গেল।

"

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের এই মামলায় তিন মহিলাকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুরো মামলাটির সাজা বজায় রাখা হয়েছিল কেবল একজন মাত্র প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে। তবে এদিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, গভীর রাতে অন্ধকারের মধ্যে ঘটনা প্রত্যক্ষ করার বিবরণ, অন্য সাক্ষীদের বয়ানের সঙ্গে অমিল এবং ঘটনা শোনার অসঙ্গতিপূর্ণ বর্ণনা অনুযায়ী ওই একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অত্যন্ত অবিশ্বাস্য ও দুর্বল। 

আদালত স্পষ্ট করে, কেবল একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া অসম্ভব নয়, তবে সেই সাক্ষ্য অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য, ধারাবাহিক ও সার্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে—যা এই মামলায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। এরপর সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। একই সঙ্গে কোরাপুট জেলার 'জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ' এবং জেলা সংগ্রাহকের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে ওই ব্যক্তির সামাজিক পুনর্বাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।