পুবের কলম, নয়াদিল্লি: আদালতে শুনানির অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং ব্যবহারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমগুলির আদালত কক্ষের কার্যক্রম ও রায় রিপোর্টিংয়ের ওপর কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। ৩১ জুলাই এক আদেশে এ কথা পুনরায় স্পষ্ট করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আদালত জানিয়েছে, "পূর্বের আদেশটিকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমগুলির আদালতের কার্যক্রম সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের ওপর কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

অডিও বা ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার না করে এই সংবাদমাধ্যমগুলি আদালতের শুনানি ও আইনি অগ্রগতি সাধারণ মানুষকে জানাতে আগের মতোই সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে।"
 
এর আগে গত ২৪ জুলাই দেওয়া এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, পূর্বানুমতি ছাড়া আদালত কক্ষের অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং সামাজিক মাধ্যম বা কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড, পোস্ট, শেয়ার, পরিবর্তন কিংবা তা থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরণের ব্যবহারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের মহাসচিব বা সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের রেজিস্টার জেনারেলের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। ২৪ জুলাইয়ের আদেশেও বলা হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক রিপোর্টিংয়ের ওপর এই নির্দেশিকার কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে সেই আদেশের পর কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ৩১ জুলাইয়ের শুনানিতে শীর্ষ আদালত বিষয়টি পুনরায় পরিষ্কার করে দেয়।
 
শুধু অডিও-ভিডিও নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ না থেকে, আদালত সমগ্র প্রক্রিয়ার পরিকাঠামো পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে নোডাল মন্ত্রকগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে রিট পিটিশনে উপস্থাপিত দাবিগুলি বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের সমস্ত হাইকোর্টকে 'লাইভ স্ট্রিমিং ও রেকর্ডিং সংক্রান্ত মডেল রুলস' গ্রহণের অগ্রগতির স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো বাধা ছাড়াই আদালতের কার্যক্রমের নিরবচ্ছিন্ন লাইভ স্ট্রিমিং করা কতটা সম্ভব ও বাস্তবসম্মত, সে বিষয়েও হাইকোর্টগুলিকে মতামত জানাতে বলেছে শীর্ষ আদালত। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর।