পুবের কলম, চেন্নাই: ঘোড়াকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল জেলায় এক ২৬ বছর বয়সী দলিত যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার মর্মান্তিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘তামিলনাড়ু আনটাচেবিলিটি ইরাডিকেশন ফ্রন্ট’ এই ঘটনাকে একটি নৃশংস বর্ণভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। ঘটনায় জড়িত সমস্ত অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার, নিহতের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং আহত যুবকের পরিবারের জন্য স্থায়ী পুলিশি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
 
জানা গিয়েছে, নিহত যুবকের নাম রামার (২৬)।

ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গী প্রশান্ত (২০)। তারা দু'জনই কোডাইকানাল তালুকের পুমবারাই গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘোড়ার সাহায্যে পাহাড়ি এলাকা থেকে শাকসবজি পরিবহনের কাজ করতেন। টিএনইউইএফ-এর দাবি অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই রাতে উচ্চবর্ণের রঘু নামে এক ব্যক্তি রামারের বাড়িতে আসেন। তাঁর দাবি ছিল, রামাতদের ঘোড়া তাঁর জমিতে ফসল খেয়েছে।
বিষয়টি দেখতে রামারকে নিজের সঙ্গে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যান রঘু। 

সংগঠনটির অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কাস্তে বা হাঁসুয়া জাতীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ৫ জনের একটি দল রামারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রামারের। তাঁর সঙ্গে থাকা প্রশান্তও এই হামলায় মারাত্মক আহত হন এবং বর্তমানে তাঁকে থেনি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রশান্তের মা প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন, আক্রমণের পরও তাঁদের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁরা নিজেদের জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। 
 
ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ‘তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন’-এর অধীনে মামলা রুজু করেছে। তবে টিএনইউইএফ-এর অভিযোগ, মূল অভিযুক্তদের মধ্যে কেবল একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি সমস্ত অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা। নিহতের পরিবারকে সংবিধিবদ্ধ আর্থিক ক্ষতিপূরণ, তাঁর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি এবং দুই সন্তানকে শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করা। চিকিৎসাধীন প্রশান্তকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া এবং তাঁর পরিবারের জন্য স্থায়ী পুলিশি সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।