পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, পরিবারে আইএএস ও সেনা কর্মকর্তার ঐতিহ্য থাকলেও নিজের পরিচয় গড়ার স্বপ্নই ছিল ফারাহ হুসেনের। আইএএস কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং নিজের যোগ্যতায় দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নই তাঁকে রাজস্থানের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ভারতীয় রাজস্ব পরিষেবার (আইআরএস) উচ্চপদে পৌঁছে দিয়েছে।
ফারাহর বাবা আশফাক হুসেন রাজস্থান প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দিয়ে পরে আইএএস পদে উন্নীত হন। মা রুখসানা হুসেনও সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার থেকে এসেছেন। প্রশাসনিক পরিবেশে বড় হলেও ফারাহ নিজের পথ নিজেই বেছে নেন।

আজমেরে স্কুলজীবন শেষ করে তিনি মুম্বইয়ের গভর্নমেন্ট ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কয়েকজন খ্যাতনামা আইনজীবী ও আইন সংস্থার সঙ্গে কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর লক্ষ্য প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়া। কোনো কোচিং ছাড়াই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। প্রথমবার সফল না হলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ২৬৭তম স্থান অর্জন করে ভারতীয় রাজস্ব পরিষেবায় যোগ দেন।

উদয়পুরে আয়কর বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফারাহ। পরে যোধপুর ও জয়পুরে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে ভরতপুরে যুগ্ম আয়কর কমিশনার হিসেবে চার জেলার প্রশাসনিক কাজ তদারকি করছেন।

কর্মক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য কোনো বৈষম্যের শিকার হননি বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, আয়কর বিভাগে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা এখনও তুলনামূলকভাবে কম। রাজস্থানের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে তাঁর এই সাফল্য অন্য মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেও তিনি আশা করেন।
ফারাহর পথচলা অবশ্য সহজ ছিল না। মুম্বইয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার সিদ্ধান্তে গ্রামের কিছু আত্মীয় আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, এতে ভবিষ্যতে বিয়েতে সমস্যা হতে পারে।
কিন্তু পরিবারের সমর্থন ও নিজের দৃঢ় সংকল্পের কারণে তিনি সেই সামাজিক চাপকে উপেক্ষা করেন।
২০১৭ সালে তিনি আইএএস কর্মকর্তা কামার-উল-জামান চৌধুরীকে বিয়ে করেন। তাঁর কথায়, শ্বশুরবাড়িতেও সবসময় সহযোগিতা পেয়েছেন। বর্তমানে দুই সন্তানের মা ফারাহ মনে করেন, সন্তানের ওপর পেশা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ভালো শিক্ষা ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেলে প্রত্যেকেই নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তাঁর জীবনও সেই বিশ্বাসেরই প্রমাণ।