পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ছাত্রবিক্ষোভের জেরে ক্ষমতা হারানোর ঠিক দু'বছর পর, ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের তথাকথিত 'ছাত্র বিপ্লব'-এর বর্ষপূর্তিতে প্রথম বার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে দৃপ্ত কণ্ঠে তিনি ঘোষণা করেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, জেলে পাঠানো বা হত্যা করা হলেও দেশের মানুষের স্বার্থে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেনই। 'মুজিবকন্যা' হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করে হাসিনা জোর দিয়ে জানান, দেশকে পুনরায় সঠিক পথে ফেরানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কড়া অবস্থান সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরে যেতে এবং প্রয়োজনে আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
দু'বছর আগের আন্দোলনকে 'শান্তিপূর্ণ' বলতে নারাজ আওয়ামি লিগ নেত্রী।
তাঁর দাবি, এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্রবিক্ষোভ ছিল না, বরং ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল। তিনি জানান, তাঁর সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে তিন জন মন্ত্রীর মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ১৫ জুলাইয়ের পর থেকেই আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেয়, দেশজুড়ে সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু হয়। বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসিনা অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতির মারাত্মক পতন হয়েছে।আরও পড়ুন:
তাঁর দাবি, বর্তমান বিএনপি সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতি মাসে ৭০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশ চালাচ্ছে, শিল্প উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে এবং ব্যবসায়ীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
পাশাপাশি, ছাত্র বিক্ষোভে মৃত্যুর তদন্তের জন্য তাঁর আমলে গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিশনকে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করতে দেয়নি এবং দোষীদের আড়াল করেছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।আরও পড়ুন:
এদিনের এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ শাকিব-আল-হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয় দাবি করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কার্যত আরও একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে আওয়ামি লিগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে এবং হিজবুত তাহরিরের মতো কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনগুলি অবাধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার আর্জি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, বাংলাদেশকে সঠিক পথে না ফেরালে ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাও চরম বিপন্ন হবে।