শুধু পরিষদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই কোনও গোষ্ঠীকে মূল রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তই শেষ কথা। শিবসেনার ভাঙন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ মৌখিক পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহানার বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, বর্তমান আইনে পরিষদীয় দলের তুলনায় রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বেশি। তাই বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজনৈতিক দলের অবস্থানই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙনকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিধায়কদের একাংশ দলত্যাগ করার পর সম্প্রতি লোকসভাতেও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার কয়েকজন সাংসদ শিন্ডে শিবিরে যোগ দেন।

এরপর সংবিধানের দশম তফসিলের আওতায় দলত্যাগী বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন উদ্ধব শিবিরের নেতা সুনীল প্রভু। একই সঙ্গে শিবসেনার নাম ও প্রতীক শিন্ডে শিবিরকে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন উদ্ধব ঠাকরে।

শুনানিতে আদালত আগের একটি রায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরে জানায়, পরিষদীয় দল স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক দলের পরিচয় নির্ধারণ করতে পারে না। কে প্রকৃত রাজনৈতিক দল, তা নির্ধারণে শুধুমাত্র বিধায়ক বা সাংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে মানদণ্ড করা যায় না।

উদ্ধব ঠাকরের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, রাজনৈতিক দলের সংবিধানের বৈধতা নির্ধারণ করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। তাঁর দাবি, একনাথ শিন্ডেকে দলনেতা করেছিলেন উদ্ধব ঠাকরেই। পরে তাঁর নেতৃত্বে ৩১ জন বিধায়ক দলবদল করেন, যা সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী সদস্যপদ খারিজের উপযুক্ত কারণ।

এ সময় প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি কীভাবে উল্লেখ রয়েছে, তা জানতে চান। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও প্রশ্ন তোলেন, দলীয় প্রতীক কি রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়? জবাবে কপিল সিব্বল সম্মতি জানালে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, শুধুমাত্র পরিষদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া নির্বাচন কমিশনের ভুল হতে পারে।

মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।