পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গত পাঁচ মাস ধরে চলমান তীব্র সংঘাতের আবহেই এক বড়সড় সাফল্য অর্জন করেছে নয়াদিল্লি। ওই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিরাপদে পার হয়েছে ভারতমুখী ৬০টি পণ্যবাহী জাহাজ। পাশাপাশি, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তিন হাজার নয়শো বাহাত্তর জন ভারতীয় নাবিককে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত মাসে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়া নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা একাধিক পণ্যবাহী জাহাজে আচমকা ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
এই রকেট হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি নয়াদিল্লি দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া ভাষায় নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তবে আমেরিকা ও ইরান, উভয় দেশের সঙ্গেই নিজেদের পুরনো সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারতমুখী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে দিল্লি।আরও পড়ুন:
কীভাবে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত খতিয়ান দিয়েছে জাহাজ মন্ত্রক। একটি বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছিল।
সেখান থেকে নাবিক ও তাঁদের উদ্বিগ্ন পরিবারের মোট পনেরো হাজার সাতশো একাত্তরটি ফোন কল এবং ছত্রিশ হাজার চারশো নিরানব্বইটি ইমেলের উত্তর দেওয়া হয়েছে। মানসিক সহায়তার জন্য অভিজ্ঞ ওয়েলফেয়ার কাউন্সেলর এবং মনোবিদদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। একইসঙ্গে, ডিজি কমিউনিকেশন সেন্টার বা এমএমডিএসি সব সময়ের জন্য খোলা রাখা হয়। সংঘাত শুরু হওয়ার আগে থেকেই ভারতীয় দূতাবাসের তরফে একাধিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মোট সাত দফা নির্দেশিকা জারি করে জাহাজ মালিকদের হরমুজ প্রণালীর রুটে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ না করার পরামর্শও দিয়েছিল কেন্দ্র।