পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর দলের অন্দরে তোলাবাজি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেট-রাজের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে শুধুমাত্র সতর্ক করেই ক্ষান্ত থাকেনি গেরুয়া শিবির, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ইতিমধ্যে কতজনকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে, এবার সেই পরিসংখ্যানও জনসমক্ষে নিয়ে এল তারা। শাসকদলের তরফে দলের সর্বস্তরে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বহিষ্কারের মতো চরম পদক্ষেপ করতেও পিছপা হবে না শীর্ষ নেতৃত্ব।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি।

তারপর থেকেই দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকার গঠনের পর প্রথম তিন সপ্তাহেই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ৫০ জন নেতা-কর্মীকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিস ধরানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য তাঁদের দলীয় সমস্ত কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিন মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে সেই শোকজ ও সাময়িক সাসপেনশনের সংখ্যা দু'শো ছাড়িয়ে গিয়েছে। দলের নির্দেশ অমান্য করা, বিশৃঙ্খলা তৈরি কিংবা বিরোধী দলের কার্যালয় দখলের মতো একাধিক অভিযোগ থাকলেও, এর মধ্যে শুধুমাত্র তোলাবাজি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী সাসপেন্ড হয়ে রয়েছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা দিনকয়েক আগেই ঘোষণা করেছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নেন যে, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে অনেকেই তোলাবাজির দিকে ঝুঁকছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন। একই সুরে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের স্পষ্ট বক্তব্য, দলে এলেই সব অপরাধ ধুয়ে যায় না। অবৈধ উপায়ে রোজগারের চেষ্টা করলে সোজা বহিষ্কার করা হবে।

রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারও জানিয়েছেন, সরকারে আসার পর দলের দায়িত্ব অনেকটাই বেড়েছে, তাই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি এখন অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি চালাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যে দু'শোর বেশি নেতা-কর্মীকে শোকজ বা সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে প্রায় শতাধিক অভিযোগের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। অনেকেই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করে পুনরায় দলের মূল স্রোতে ফিরেছেন। তবে এখনও একশোর বেশি নেতা-কর্মী সাসপেনশনে রয়েছেন, যার মধ্যে তিরিশ জনের বেশি শুধুমাত্র কাটমানি কাণ্ডে জড়িত। এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এনে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মূলত দলের নিচুতলার কর্মীদের কাছে একটি কড়া বার্তাই পৌঁছে দিতে চাইল যে, অবিলম্বে বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ না হলে আগামী দিনে সকলকেই আরও কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।