পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা মানুষ খুনের চেয়েও জঘন্য ও ভয়ংকর অপরাধ। কারণ, একটি খুন শুধুমাত্র একটি পরিবারকে ধ্বংস করে, কিন্তু প্রশ্নফাঁসের মতো দুর্নীতি লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ও কেরিয়ার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে এবং সমাজকে চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। একটি প্রশ্নফাঁস মামলার শুনানিতে এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল ছত্তীসগঢ় হাই কোর্ট। এই যুক্তিতেই ওই মামলায় অভিযুক্ত এক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিকের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

দেশজুড়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে এমনিতেই তোলপাড় চলছে। সিবিআই সম্প্রতি এই মামলায় ৯৪ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে এবং ছাত্রবিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফাও দিতে হয়েছে। ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ডেও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। এই আবহে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের বিচারপতি বিভু দত্ত গুরুর এই পর্যবেক্ষণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

গত ৩১ জুলাই এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত, এরপর বুধবার সেই রায় ঘোষণা করে অভিযুক্তের জামিন খারিজ করা হয়।

২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছত্তীসগঢ় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (সিজিপিএসসি) পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যার তদন্ত করছে সিবিআই। তদন্তে নেমে গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিজিপিএসসি-র তৎকালীন সচিব তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক জীবনকিশোর ধ্রুবকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, ২০২১ সালের পিএসসি মেইনস পরীক্ষার আগে জীবনকিশোর নিজের ছেলের হাতেই প্রশ্নপত্র তুলে দিয়েছিলেন।

ছেলে বাড়িতে বসে সেই নির্দিষ্ট চারটি প্রশ্ন অভ্যাস করে পরীক্ষায় সফল হন এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক পদে নিযুক্ত হন। সিবিআই আদালতে এর সপক্ষে প্রমাণও পেশ করেছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।

যদিও জীবনকিশোর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জামিনের আবেদনে তাঁর দাবি ছিল, ওই নির্দিষ্ট সময়ে তিনি পিএসসি-র সচিব পদে ছিলেন বলেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। তবে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে 'সাধারণ' হিসেবে মানতে নারাজ। তাই সব দিক বিচার করে ওই অবসরপ্রাপ্ত আমলার জামিনের আর্জি পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।