পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আবাস যোজনায় অবৈধভাবে টাকা নেওয়া উপভোক্তাদের থেকে সেই টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নবান্ন থেকে এ কথা জানান রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই অবৈধ প্রাপকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।
এ দিনের বৈঠকে আবাস যোজনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

 সরকার জানিয়েছে, নতুন করে আরও ১৮ লক্ষ ৬৬ হাজার উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ১০ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে বাড়ি তৈরির দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে মোট ৩০ লক্ষ মানুষের নাম আবাস যোজনায় নথিভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমীক্ষা করে দেখা যায়, বিগত সরকার মাত্র ১২ লক্ষ মানুষকে দুই কিস্তির টাকা প্রদান করেছে।

বাকি ১৮ লক্ষের মধ্যে থেকে আপাতত ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জনকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

 সমীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল যাচাইয়ের পর বাকি ৮ লক্ষ প্রাপককেও ধাপে ধাপে এই টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সমীক্ষায় উঠে আসা অনিয়মের কথা উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যেই এমন ১২ হাজার ৫০০ জন উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন, অথচ তাঁরা এই যোজনার যোগ্য দাবিদার নন। এদের নোটিস দিয়ে সরকারি টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ১ হাজার জনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়াও এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া ৫৭ হাজার মানুষও বেআইনিভাবে এই টাকা পেয়েছেন বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

এ দিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগের সরকারের আমলে আবাসের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাজ্যকে ৪০ লক্ষ বাড়ি তৈরির জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল। এত বিপুল পরিমাণ সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন করা কঠিন, তাই উপভোক্তাদেরও কিছু টাকা খরচ করতে হতে পারে। তবে বাড়ি সম্পূর্ণ হলে স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের অধীনে শৌচালয় তৈরির জন্য আরও ১২ হাজার টাকা সরকারি সাহায্য মিলবে।