পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে 'ককরোচ' তথা জেন জি-র তীব্র আন্দোলনের জেরে সদ্য ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অনুদান বা সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব নিয়ে যখন জোর বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময়েই জেন জি-র পাশে দাঁড়ালেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে ছাত্রছাত্রীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেন জি-দের এই আন্দোলন দেশবিরোধী নয় এবং তাঁদের ক্ষোভ সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।

এদিন পড়ুয়াদের উদ্দেশে সংঘ প্রধান বলেন, এই প্রজন্মের সঙ্গে বিবাদে না গিয়ে তাঁদের দাবিদাওয়া উপেক্ষা না করে আলোচনা করা প্রয়োজন।

উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলেই তাঁরা পথে নেমেছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী প্রজন্মের অগ্রগতি ও দেশের ভিত মজবুত করতে শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো এমন হওয়া উচিত যাতে কেউই বঞ্চিত না হন। সমাজ ব্যবস্থার উন্নতিতে জেন জি-র অপরিসীম অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ভাগবতের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩৫ কোটি জেন জি রয়েছেন, অর্থাৎ প্রতি ৩ জনে ১ জনই জেন জি। ফলে আগামী লোকসভা ভোটে তাঁরা একটি বড় নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে শুধু জেন জি নয়, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়েও সরব হন মোহন ভাগবত। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নন, বরং তাঁরা এই সমাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সমকামীদের একসঙ্গে থাকার অধিকার সুনিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের পক্ষেও সওয়াল করেন সংঘ প্রধান।