পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু দেশ হিসেবে জাপানের নাম বহুদিন ধরেই আলোচনায়। অনেকেই এর কৃতিত্ব মাছ, গ্রিন টি বা ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসকে দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে কর্মরত নিউরোসার্জন ডা. বাইবিং চেন, যিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘ডা. বেন’ নামে পরিচিত, তাঁর মতে জাপানিদের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের রহস্য শুধু খাবারে নয়, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরনেই লুকিয়ে রয়েছে।


 ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি জানান, জাপানে মানুষ নিয়মিত সময়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, প্রতিদিন হাঁটা এবং দীর্ঘদিন ধরে একই রুটিন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

এতে মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও বিপাকক্রিয়া দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকে। নিয়মিত জীবনযাত্রা রক্তে শর্করা, স্ট্রেস হরমোন ও ঘুমের চক্রকে ভারসাম্যে রাখে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ কমায় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা রক্ষা করে।


ডা. চেন আরও বলেন, জাপানিদের খাবারের পরিমাণ সাধারণত কম এবং ভারসাম্যপূর্ণ। তারা পেট ভরে যাওয়ার আগেই খাওয়া থামান।

বছরের পর বছর এই অভ্যাস অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে, ফলে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ কম পড়ে এবং বার্ধক্য ধীরগতিতে আসে।


জাপানে শারীরিক পরিশ্রমও দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ট্রেন স্টেশনে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার কিংবা ছোটখাটো কাজে পায়ে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, স্ট্রোক ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।


এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা, বয়স্কদের কর্মজীবন বা স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত থাকা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা- এসব বিষয়ও জাপানিদের দীর্ঘায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, রোগ জটিল হওয়ার আগেই শনাক্ত করা গেলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।


ডা. চেনের দাবি, এসব অভ্যাস শুধু জাপানের জন্য নয়; বিশ্বের যেকোনো মানুষই পরিমিত পরিমাণে খাবার খাওয়া, প্রতিদিন হাঁটা, নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের দিকে এগোতে পারেন।