ইসলামে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাদের ভরণপোষণ, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সম্মান ও মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থা করা প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য। তাদের সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলা, ধৈর্য ধারণ করা, তাদের কষ্ট না দেওয়া, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের জন্য দোয়া করা ঈমানের পরিচয়। মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া করা, ঋণ পরিশোধ করা, বৈধ অসিয়ত বাস্তবায়ন করা, আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের বন্ধুদের সম্মান করা সন্তানের দায়িত্ব।

মহান আল্লাহতালা বলেন, “তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। আর পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর।

” (সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬)। 

আবার তিনি বলেন, “আর তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না, তাদের ধমক দিও না এবং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো। আর দয়া ও মমতায় তাদের সামনে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বলো, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।’”(সূরা আল-ইসরা, ১৭:২৩–২৪)

 এছাড়া আল্লাহ বলেন, “আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।

তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়াতে লেগেছে দুই বছর। সুতরাং আমার প্রতি এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন।”(সূরা লুকমান, ৩১:১৪)

রাসুলুল্লাহ(সা:) বলেছেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যে।” (তিরমিজি)। 

অন্য হাদিসে তিনি তিনবার বলেছেন, “ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি, যে তার পিতা-মাতার একজন বা উভয়কে বার্ধক্যে পেল, অথচ তাদের সেবার মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারল না।

” (সহিহ মুসলিম)।

 এক ব্যক্তি জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে রাসুল (সা:) জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তখন নবী(সা:) বললেন, “তাহলে তাদের সেবাতেই তোমার জিহাদ।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

অতএব, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা শুধু সামাজিক বা পারিবারিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর আদেশ, রাসুল (সা:)–এর সুন্নাহ এবং জান্নাত লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল। 

প্রত্যেক সন্তানের উচিত আন্তরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও যত্নের মাধ্যমে বাবা-মায়ের হক আদায় করা। ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাবা-মায়ের সেবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।