পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অভাব দমাতে পারেনি স্বপ্নকে। বাবার পেশা কাঠমিস্ত্রি, কিন্তু মেয়ের চোখ আকাশের তারায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই মহাকাশ গবেষণার দুনিয়ায় পা রেখে গোটা দেশের মুখ উজ্জ্বল করল অন্ধ্রপ্রদেশের দশম শ্রেণির ছাত্রী কান্দুলা জেসি। বিশ্বের প্রথম শুধুমাত্র নারীদের দ্বারা পরিচালিত চন্দ্র-কেন্দ্রিক কিউব-স্যাট মিশন 'শক্তি-স্যাট'-এর জন্য ভারত থেকে যে ২০ জন পড়ুয়া সুযোগ পেয়েছে, জেসি তাদের মধ্যে অন্যতম।

অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার একটি সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে জেসি। তার বাবা একজন কাঠমিস্ত্রি এবং মা গৃহিণী। আর্থিক অনটনের কারণে একসময় বেসরকারি স্কুল ছেড়ে তাকে সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছিল। ছোট থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ইসরোর বিজ্ঞানী হওয়ার।

জেসির এই স্বপ্নের উড়ানে বড় ভূমিকা রয়েছে তার স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষিকা মণিমালার। তাঁর উৎসাহেই জেসি 'স্পেস কিডজ ইন্ডিয়া'-র এই বৈশ্বিক উদ্যোগে আবেদন করে। এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. শ্রীমাথি কেসান ইসরো এবং নাসার একজন অ্যাম্বাসেডর। জানা গিয়েছে, এই মিশনে যোগ দেওয়ার জন্য ১০৮টি দেশ থেকে প্রায় ১২ হাজার প্রতিযোগী আবেদন করেছিল, যাদের মধ্যে থেকে জেসি নিজের জায়গা করে নিয়েছে।

এই জায়গায় পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ ছিল না চোদ্দো বছরের এই কিশোরীর জন্য। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকার, ইংরেজিতে নিজের দক্ষতা প্রমাণ এবং এক মিনিটের একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মতো কঠিন ধাপ পেরোতে হয়েছে তাকে। এর পাশাপাশি ৫৫০টি অনলাইন প্রশিক্ষণ সেশন এবং ২১টি মডিউলের মাধ্যমে সে স্যাটেলাইট সিস্টেম, প্রপালশন, থার্মোডাইনামিক্স এবং মহাকাশ প্রযুক্তির মতো জটিল বিষয়গুলি শিখেছে।
আগামী ২৩ আগস্ট থেকে নয়াদিল্লিতে এই পড়ুয়াদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাত্রীদের তৈরি করা এই চন্দ্র কিউব-স্যাট চলতি বছরের অক্টোবর মাসে শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করবে ইসরো। আপাতত ইসরোর এক জন সফল বিজ্ঞানী হয়ে পরিবার ও দেশের নাম উজ্জ্বল করাই জেসির জীবনের মূল লক্ষ্য।