০১ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২০২৮-এ চন্দ্রযান-৪ উৎক্ষেপণ: ইসরো প্রধান

মহাকাশ গবেষণায় টক্কর, ফের চাঁদের দেশে পা রাখবে ভারত

পুবের কলম, নয়াদিল্লি: মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। চলতি বছররেই আরও সাতটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে ইসরো। সংস্থার প্রধান ভি নারায়ণন এদিন বলেছেন, এই অর্থবছরে আরও সাতটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযান ২০১৭ সালে উৎক্ষেপণ নির্ধারিত রয়েছে। ইসরো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থার প্রধানের মতে, ইসরো চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে আরও সাতটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে। যার মধ্যে একটি বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ এবং একাধিক পিএসএলভি এবং জিএসএলভি মিশন রয়েছে।

ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উৎক্ষেপণ হবে একটি মাইলফলক। যা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত প্রথম পিএসএলভি উৎক্ষেপণ। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল মিশন হল লুপেক্স, জাক্সা (জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি) এর সাথে যৌথ চন্দ্র মেরু অনুসন্ধান প্রোগ্রাম। ইসরো একই সাথে মিশনের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে আগামী তিন বছরে মহাকাশ নিয়ে গবেষণা তিনগুণ করতে কাজ করছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার চন্দ্রযান-৪ মিশনকে অনুমোদন দিয়েছে। এই মিশনটি চন্দ্রের নমুনা-প্রত্যাবর্তন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে ডিজাইন করা হয়েছে। চন্দ্রযান-৪ মিশন এখনও পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় এবং জটিল চন্দ্র প্রচেষ্টা হবে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা চন্দ্রযান-৪ ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছি।”

আরও পড়ুন: আজ ভারতের সবচেয়ে ভারী স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ করবে ইসরো, শক্তিবৃদ্ধি হবে নৌবাহিনীর

ইসরো বলেছে, চন্দ্রযান-৪ চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চিন এই মিশন নিয়ে কাজ করছে। ভারতের লুপেক্স মিশনের লক্ষ্য হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের বরফ অধ্যয়ন করা। ইসরো ইতিমধ্যে একটি ভারতীয় মহাকাশ স্টেশনের কাজ শুরু করেছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে স্টেশনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসএস শেষ হওয়ার কাছাকাছি এবং চিনের তিয়ানগং পুরোপুরি চালু হওয়ার সাথে সাথে এই প্রচেষ্টা ভারতকে মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা করার জন্য বিশ্বের তৃতীয় দেশ। ভারতের প্রথম মানব-মহাকাশযান মিশন গগনযান সম্পর্কে নারায়ণন স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল ক্রুবিহীন মিশনের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। ইসরো চেয়ারম্যানের কথায়, “আমি এটি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ক্রুবিহীন মিশনটি ২০২৫ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্রু মিশনটি ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং আমরা সেই তারিখকে ধরে এগোচ্ছি।” ভারতীয় নভোচারীদের সাথে প্রথম উড়ানের আগে তিনটি ক্রুবিহীন পরীক্ষামূলক মিশন চালাবে। চন্দ্রযান-৪ মিশন নিয়ে ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে প্রেরণ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করার জন্য ইসরোকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের দীর্ঘমেয়াদী মানব-মহাকাশ পরিকল্পনা এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ শক্তিগুলির একটি। বিশ্ব মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অংশ বর্তমানে প্রায় ২ শতাংশ। ইসরো ২০৩০ সালের মধ্যে এই অর্থনীতিকে ৮ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে। ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে তা ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।

আরও পড়ুন: ইসরো চেয়ারম্যানের জোরাজুরিতে এড়ানো গেছে দূর্ঘটনা জানালেন Shubhansh Shukla

আরও পড়ুন: নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য ১০টি উপগ্রহ কাজ করছে: ইসরোর চেয়ারম্যান
প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.

খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে বিক্ষোভ, সংঘর্ষে নিহত ৯

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

২০২৮-এ চন্দ্রযান-৪ উৎক্ষেপণ: ইসরো প্রধান

মহাকাশ গবেষণায় টক্কর, ফের চাঁদের দেশে পা রাখবে ভারত

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার

পুবের কলম, নয়াদিল্লি: মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। চলতি বছররেই আরও সাতটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে ইসরো। সংস্থার প্রধান ভি নারায়ণন এদিন বলেছেন, এই অর্থবছরে আরও সাতটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযান ২০১৭ সালে উৎক্ষেপণ নির্ধারিত রয়েছে। ইসরো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থার প্রধানের মতে, ইসরো চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে আরও সাতটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে। যার মধ্যে একটি বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ এবং একাধিক পিএসএলভি এবং জিএসএলভি মিশন রয়েছে।

ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উৎক্ষেপণ হবে একটি মাইলফলক। যা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত প্রথম পিএসএলভি উৎক্ষেপণ। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল মিশন হল লুপেক্স, জাক্সা (জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি) এর সাথে যৌথ চন্দ্র মেরু অনুসন্ধান প্রোগ্রাম। ইসরো একই সাথে মিশনের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে আগামী তিন বছরে মহাকাশ নিয়ে গবেষণা তিনগুণ করতে কাজ করছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার চন্দ্রযান-৪ মিশনকে অনুমোদন দিয়েছে। এই মিশনটি চন্দ্রের নমুনা-প্রত্যাবর্তন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে ডিজাইন করা হয়েছে। চন্দ্রযান-৪ মিশন এখনও পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় এবং জটিল চন্দ্র প্রচেষ্টা হবে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা চন্দ্রযান-৪ ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছি।”

আরও পড়ুন: আজ ভারতের সবচেয়ে ভারী স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ করবে ইসরো, শক্তিবৃদ্ধি হবে নৌবাহিনীর

ইসরো বলেছে, চন্দ্রযান-৪ চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চিন এই মিশন নিয়ে কাজ করছে। ভারতের লুপেক্স মিশনের লক্ষ্য হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের বরফ অধ্যয়ন করা। ইসরো ইতিমধ্যে একটি ভারতীয় মহাকাশ স্টেশনের কাজ শুরু করেছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে স্টেশনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসএস শেষ হওয়ার কাছাকাছি এবং চিনের তিয়ানগং পুরোপুরি চালু হওয়ার সাথে সাথে এই প্রচেষ্টা ভারতকে মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা করার জন্য বিশ্বের তৃতীয় দেশ। ভারতের প্রথম মানব-মহাকাশযান মিশন গগনযান সম্পর্কে নারায়ণন স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল ক্রুবিহীন মিশনের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। ইসরো চেয়ারম্যানের কথায়, “আমি এটি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ক্রুবিহীন মিশনটি ২০২৫ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্রু মিশনটি ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং আমরা সেই তারিখকে ধরে এগোচ্ছি।” ভারতীয় নভোচারীদের সাথে প্রথম উড়ানের আগে তিনটি ক্রুবিহীন পরীক্ষামূলক মিশন চালাবে। চন্দ্রযান-৪ মিশন নিয়ে ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে প্রেরণ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করার জন্য ইসরোকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের দীর্ঘমেয়াদী মানব-মহাকাশ পরিকল্পনা এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ শক্তিগুলির একটি। বিশ্ব মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অংশ বর্তমানে প্রায় ২ শতাংশ। ইসরো ২০৩০ সালের মধ্যে এই অর্থনীতিকে ৮ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে। ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে তা ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।

আরও পড়ুন: ইসরো চেয়ারম্যানের জোরাজুরিতে এড়ানো গেছে দূর্ঘটনা জানালেন Shubhansh Shukla

আরও পড়ুন: নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য ১০টি উপগ্রহ কাজ করছে: ইসরোর চেয়ারম্যান