পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশ ছাড়ার ঠিক দু'বছর পর দিল্লিতে বসে 'মিশন ডিসেম্বর'-এর ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি ভারচুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর এই বার্তার পরেই মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামি লিগ নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দলটির নেতা-কর্মীরা বাংলাদেশ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় আচমকা ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন:
আওয়ামি লিগের এই তৎপরতা বাড়তেই পালটা ধরপাকড় শুরু করেছে সে দেশের পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার বনানী এলাকায় আর্মি স্টেডিয়ামের ঠিক উলটো দিকে একটি মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লিগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা। সেখান থেকে পুলিশ সাত জনকে আটক করে এবং ৭০টি মশাল ও ব্যানার উদ্ধার করে। এর আগে ময়মনসিংহ জেলার পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ এবং কুমিল্লাতেও আওয়ামি লিগ, যুবলিগ ও ছাত্রলিগ ঝটিকা মিছিল বের করে। সেই সব মিছিলের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর পল্লবী ও মিরপুর এলাকাতেও এমন মিছিল করার চেষ্টা করা হয়।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার অন্তর্গত চশমা হিল এলাকায় আওয়ামি লিগ নেতা তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, ৬-৭ জনের একটি দল তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রল বোমার মতো কিছু ছুড়ে মারে। আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের প্রাক্তন মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে নওফেলের এই বাড়িতে গত দু'বছরে এই নিয়ে চারবার হামলার ঘটনা ঘটল।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলির এই আচমকা জমায়েত ও মিছিলের জেরে যাতে দেশের পরিস্থিতি নতুন করে অশান্ত না হয়ে ওঠে, তার জন্য বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।