পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে কেন্দ্রীয় সরকারের মোট খরচ হয়েছে ৫৫৭.৫ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। আম আদমি পার্টির (আপ) সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র সাংসদ ভি শিবদাসনের উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এই ব্যয়ের বিস্তারিত পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের মোট খরচ, সফরকালীন চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা এবং দেশে আসা বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছিলেন সাংসদরা।
আরও পড়ুন:
বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে খরচ হয় ৩৬.১ কোটি টাকা। ২০২২ সালে ৫৫.৮ কোটি, ২০২৩ সালে ৯৩.৬ কোটি, ২০২৪ সালে ১০৯.৫ কোটি ও ২০২৫ সালে ১৮৭.৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছর ৬টি সফরের মাধ্যমে ১৩টি দেশ ভ্রমণে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৭৪.৫ কোটি টাকা। তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর ছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফর, যার ব্যয় ছিল ২৫.৫ কোটি টাকারও বেশি।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালে করা সফরগুলোর মধ্যে গত মে মাসে নরওয়ে সফরটি ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল, যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা।আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জানায়, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে মোট ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এসেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক জোরদার করতে সাহায্য করে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এই সফরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে, মোট এফডিআই-এর কতটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরগুলোর ফলে এসেছে বা সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তির সরাসরি অবদান কতটুকু, তার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নির্দিষ্ট করে প্রকাশ করেনি মন্ত্রক।